সেলিম প্রধান চার দিনের রিমান্ডে

লোকমান ফের হেফাজতে

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সেলিম প্রধান চার দিনের রিমান্ডে

বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয় সেলিম প্রধানকে : ফোকাস বাংলা

অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সেলিম প্রধানসহ তিনজনকে মাদকের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর আদালতের হাকিম মইনুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ আদেশ দেন। অপর দুই আসামি হলেন আখতারুজ্জামান ও রোমান। এ ছাড়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গতকাল সকালে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (অপারেশন) আমিনুল ইসলাম আসামি সেলিম প্রধানসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তিনি আসামিদের গ্রেফতার দেখানো ও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক ধীমান চন্দ্র মণ্ডল আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর রিমান্ডের শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ১ অক্টোবর বাড়িতে হরিণের দুটি চামড়া রাখার অপরাধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সেলিম প্রধানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করে র‌্যাব-১। পরদিন তার গুলশান-বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নগদ ২৯ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ মুদ্রা, ৪০ বোতল বিদেশি মদ ও হরিণের চামড়া জব্দ করা হয়। এরপর মাদকদ্রব্য ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক দুটি মামলা করে র‌্যাব। আগামী ৩ নভেম্বর মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

লোকমান ফের রিমান্ডে :মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনূর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে লোকমানকে আদালতে হাজির করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই কামরুল ইসলাম। গত ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দুই দফায় লোকমানের দু'দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনে তরুণী :সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের টেন্ডার পেতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন জি কে শামীম। গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীকে দুই পদ্ধতিতে 'ম্যানেজ' করতেন তিনি। কেউ মোটা অঙ্কের টাকা বখরা পেয়ে খুশি হতেন। কারও কারও জন্য ছিল ভিন্ন ব্যবস্থা। বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েক কর্মকর্তাকে অভিজাত হোটেলে রেখে প্রমোদসঙ্গীর সঙ্গে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করে দিতেন শামীম। এ জন্য অনেক সুন্দরী তরুণীকে নিয়মিত অর্থ দিতেন তিনি। তাদের মধ্যে মডেল ও বিমানবালাও রয়েছেন। এই তরুণীদের কাজ ছিল সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা বা নেতাদের মনোরঞ্জন করা। রিমান্ডে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা জি কে শামীম।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম সমকালকে বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্নিষ্ট কয়েকজনের নামও জানা গেছে। সেসব যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সূত্রে তার সম্পর্কে যেসব অভিযোগের কথা জানা গেছে, সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

র‌্যাব সূত্র জানায়, বড় বড় প্রকল্পের কাজ শামীম কীভাবে বাগিয়ে নিতেন, মূলত সে ব্যাপারেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী নেতাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই কাজ পেতে হতো। পাশাপাশি যাকে যেভাবে সন্তুষ্ট করা প্রয়োজন, সেই ব্যবস্থাও তিনি করতেন। সংশ্নিষ্টদের প্রভাবিত করতে নিজেও বেশ দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। অনেককে সরাসরি বা ইঙ্গিতে বোঝাতেন, সরকারের উচ্চ মহলের সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। কাজটা যেন তাকেই দেওয়া হয়। সে জন্য ক্ষমতাসীন দলের কোনো কোনো নেতা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফোন করেও সুপারিশ করতেন। সব মহলেই সুবিধাভোগী থাকায় টেন্ডার পেতে সমস্যা হতো না শামীমের।