জাতিসংঘ আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি ডিসেম্বরে

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার বিচার চেয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানি হবে ডিসেম্বরে। সোমবার এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়েছেন, ১০ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন এ মামলার শুনানি হবে।

গাম্বিয়া বলেছে, আন্তর্জাতিক আদালতকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য জরুরি আদেশ দিতে আবেদন জানানো হবে। দেশটির আইনজীবীরা বলছেন, তারা চান রোহিঙ্গাদের যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আইসিজে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। খবর এএফপির।

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। তারা জানিয়েছে, বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা-ওআইসির ৫৭টি দেশের পক্ষে তারা এ মামলা করেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি বিধানে জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯৫৬ সালে জেনোসাইড কনভেনশনে সই করে মিয়ানমার। কনভেনশন অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো অবশ্যই গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ থেকে বিরত থাকবে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। এ অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা এবং হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়। তখন প্রাণ বাঁচাতে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা তাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরে, যাকে 'জাতিগত নির্মূল অভিযান' 'হত্যাযজ্ঞ' হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় আইসিজের বাইরে সম্প্রতি আর্জেন্টিনাতেও মামলা হয়েছে। রাখাইনে বর্বরোচিত নৃশংসতায় জড়িত থাকায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির বিরুদ্ধে গত ১৩ নভেম্বর এ মামলা করা হয়।