বাতাস থেকে মিলবে প্রোটিন

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

বিশ্বে বাড়ছে মানুষ। বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। আশঙ্কা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে উদ্ভিদ ও ভূমিনির্ভর চাষবাসের মাধ্যমে এ চাহিদা মেটাতে কঠিন হবে। তাই এর বিকল্প খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। খাদ্য উৎপাদনে উদ্ভিদ, ভূমি ও পানি ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার কৌশল নিয়ে চলছে গবেষণা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের প্রতিষ্ঠান 'এয়ার প্রোটিন'। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে বাতাস থেকে প্রোটিন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এটাকে তারা বলছে, 'বায়ু প্রোটিন' বা 'বিকল্প মাংস'। আগামী বছরের মধ্যে নতুন ধরনের এ খাদ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উদ্ভাবিত একটি প্রযুক্তিকে বিকল্প খাদ্য তৈরির কাজে ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। উদ্ভিদ যেভাবে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে তা থেকে প্রোটিন তৈরি করে ঠিক সেই রাসায়নিক প্রক্রিয়াটিকেই নাসা গবেষণাগারে কাজে লাগিয়েছিল। মহাকাশচারীদের কথা মাথায় রেখে গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে এ প্রক্রিয়াটির কথা ভাবা হয়েছিল। মহাকাশে অবস্থানকালে নভোযানে যে উপাদানটির প্রাচুর্য থাকে তা হলো মহাকাশচারীদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড। গবেষণায় নাসার বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, হাইড্রোজেনোট্রোফস নামে একটি অতি ক্ষুদ্র জৈব যৌগ বাতাস থেকে প্রাপ্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে প্রোটিনে পরিণত করতে পারে। এয়ার প্রোটিন এবার সেই প্রোটিন থেকে 'বিকল্প মাংস' তৈরি করতে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী লিসা ডাইসন বলেন, এরই মধ্যে বিশ্ব উদ্ভিদভিত্তিক মাংসের কথা জেনেছে। আমাদের বিশ্বাস এবার বাতাস থেকে তৈরি মাংস হবে টেকসই খাদ্য তৈরিতে আরেক বিপ্লব। এর ফলে বিশ্বে খাদ্যের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমিয়ে আনা যাবে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে নাসার উদ্ভাবিত প্রক্রিয়াটির অনেক উন্নতি ঘটিয়েছে। আগে যে পরিমাণ প্রোটিন তৈরিতে মাস পার হয়ে যেত, এখন তা সম্ভব হচ্ছে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই।