পিঙ্ক টেস্ট খেলতে কলকাতায় টাইগাররা

টেস্ট সিরিজ

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

আলী সেকান্দার কলকাতা থেকে

কলকাতা টেস্টের আগে বিচ্ছুরিত হচ্ছে গোলাপি রং। বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটারদের আলোচনার বিষয়বস্তু একবিন্দুতে এসে মিলে যায় এ ইস্যুতে। গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচটি কেমন হবে, বলে কতটা মুভমেন্ট থাকবে, ব্যাট করা কতটা কঠিন হতে পারে, পেসার না স্পিনাররা বেশি সুবিধা পাবেন এবং ম্যাচের আয়ুস্কাল ক'দিন হতে পারে- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এ মুহূর্তে কারোই জানা নেই। যে তথ্যগুলো বেরিয়ে এসেছে, তা প্রস্তুতিনির্ভর। কারণ বাংলাদেশ বা ভারত কেউই তো গোলাপি বলে ম্যাচ খেলেনি। ক্রিকেটারদের জন্য বিষয়টি নতুন ও রোমাঞ্চকর। তাই ম্যাচ না খেলা পর্যন্ত গোলাপি বলের সঠিক চিত্র দিতে পারছেন না ক্রিকেটাররাও। সবাইকেই ২২ নভেম্বর পর্যন্ত একটা উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ম্যাচের আয়োজক সংস্থা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) কর্মকর্তাদেরও ধৈর্য ধরতে হচ্ছে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে। পাঁচ দিনের ম্যাচ হলেও প্রথম তিন দিনের টিকিট বিক্রি করেছেন তারা। এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে জুড়ে গেছেন দুই দেশের দর্শক-সমর্থকরাও।

এ কারণে তারাও লাইন দিচ্ছেন ম্যাচের শুরুর দিনগুলোর টিকিট কাটতে। মূলত মিডিয়ার মাধ্যমেই গোলাপি বলের দিবারাত্রির টেস্টের উত্তাপ পৌঁছে গেছে ক্রিকেটের দর্শকের কাছে। গত কয়েক দিনে এসজি গোলাপি বলের চরিত্র কতটা উন্মোচন করা গেছে ক্রিকেটারদের সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন হয়েছে। খেলোয়াড়রাও নিজেদের অনুশীলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোমাঞ্চের কথা জানিয়েছেন। ক্রিকেটারদের উত্তরের বেশিরভাগ জুড়ে ছিল বলে সুইং পাওয়ার বিষয়টি। টেস্ট ক্রিকেটে এই নতুনত্বকে গ্রহণ করার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছেন খেলোয়াড়রাই বেশি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচও। বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলকাতা টেস্ট শেষে ক্রিকেটারদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে দিবারাত্রির টেস্ট খেলা-না খেলার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন তারা। সে কারণে খেলোয়াড়দের বাইরেও গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে সংগঠকদের ভেতর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচটি পর্যবেক্ষণ করবে ভবিষ্যতের জন্য। তারাও তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের মতামত নেবেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের দিবারাত্রির টেস্টের ভবিষ্যৎ যেমনই হোক, ক্রিকেটাররা গোলাপি বলের খেলা উপভোগ করতে চান। উপভোগ্য করে তুলতে চান দর্শকদের জন্যও। টাইগার প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানালেন, দু'দিনের প্রস্তুতি শেষে কিছুটা অভিজ্ঞতা নিতে পেরেছেন তারা। ইডেন গার্ডেনসে ভালো কিছু আশা করেন তিনি। গতকাল বলেছেন, 'দুটি দিন ভালো প্র্যাকটিস হয়েছে। আরও দুটো দিন পাওয়া যাবে। গোলাপি বলে ছেলেরা মানিয়ে নিচ্ছে। ছেলেদের মতো আমিও কলকাতা টেস্ট নিয়ে রোমাঞ্চিত।'

ডমিঙ্গো যতটা সহজ বলছেন, ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা সে রকম না। তারা এখনও পুরোপুরি বলের সঙ্গে ধাতস্থ হতে পারেননি। একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বলের মুভমেন্ট নিয়ে চিন্তিত তারা। বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের দুশ্চিন্তা বেশি। একটু মজা করেই ইমরুল কায়েস বললেন, 'বল তো এদিক-ওদিক ছোটে। ব্যাটসম্যানদের জন্য একটু সমস্যা। তবে বোলাররা ভালো করবে। বোলারস গেম হয়ে যেতে পারে ইডেন টেস্ট। আমরা ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করছি এই সময়ের ভেতরেই মানিয়ে নিতে।'

গোলাপি বলে সবচেয়ে বেশি অনুশীলন করার সুযোগ হয়েছে পেসার আল-আমিন হোসেনের। ইন্দোর টেস্টের একাদশে না থাকায় দিনের খেলা শেষে নেট সেশন করেছেন তিনি। সেদিক থেকে বাংলাদেশ দলে তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞতাও তার। এই অভিজ্ঞতার নিরিখেই আল-আমিন বলছেন, 'আমার কাছে মনে হয় বোলাররাই কলকাতা টেস্ট নিয়ন্ত্রণ করবে। যতটা জানি, ইডেনেও স্পোর্টিং উইকেট হবে। সেক্ষেত্রে পেস বোলারদের ভালো করার সম্ভাবনা বেশি। আমরা দিনে ও রাতে দুই সময়েই প্র্যাকটিস করেছি। ফ্লাডলাইট জ্বলার পর বলের পেস ও মুভমেন্ট বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ব্যাটম্যানদের জন্য একটু কঠিন হতে পারে। তবে ম্যাচে না নামা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত না।'

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন জানান, গোলাপি বলে খেলা চ্যালেঞ্জিং। তিনি মনে করেন, ইন্দোরে যে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে, এর চেয়ে বেশি কিছু কলকাতায় হবে বলে মনে করেন না। গোলাপি বলের সিমটা খুব শক্ত। মোটা চামড়া দিয়ে তৈরি। সহজে নষ্ট হবে না। পুরনো হলেও পেস ও বাউন্স থাকবে। বিশেষ করে সুইংটা বেশি ভোগাবে। ব্যাটসম্যানদের এই জিনিসগুলো খেয়াল রাখতে হবে বলে জানান তিনি। গোলাপি বলে টেস্ট ম্যাচ খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং সেটা বোঝা যায় গুজরাটের ব্যাটসম্যান প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চালের কথায়। দুলিপ ট্র্রফিতে দিবারাত্রির চার দিনের ম্যাচে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে তার। অভিজ্ঞতা থেকেই পাঞ্চল বলেছেন, সাদা ও লাল বল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা গোলাপি বল। রান করতে ব্যাটসম্যানদের কঠোর পরিশ্রম করে ধৈর্য দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আসলে ধৈর্য তো টেস্ট ক্রিকেটেরই বেসিক।