'ক্যাসিনো-ক্যাশিয়ার' মাকসুদের সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

'ক্যাসিনো-ক্যাশিয়ার' মাকসুদের সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

মাকসুদুর রহমান

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার 'ক্যাশিয়ার' হিসেবে পরিচিত মাকসুদুর রহমানের সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এই নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি দুদক পরিচালক ও ক্যাসিনোবিরোধী টিমের প্রধান সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত বর্ণনা, লেনদেন ও তাদের নামে থাকা এফডিআরসহ অন্যান্য আমানত-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ক্যাসিনোকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের এই তালিকায় মাকসুদুর রহমানও রয়েছেন।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরুতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের বাসা থেকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাকসুদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তখন থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাকসুদের অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হতে শুরু করে। এরপর তিনি দলীয় কার্যালয় ও কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, দুদকের তালিকায় ক্যাসিনোকাণ্ডে বহুল আলোচিত বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াও রয়েছেন। পাশাপাশি আছেন একাধিক এমপি, কাউন্সিলর, যুবলীগ-কৃষক লীগের নেতা, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ অন্যরা। এর বাইরে ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত আরও প্রায় অর্ধশতজনের নামের তালিকা রয়েছে দুদকের কাছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরও ব্যাংক হিসাব চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ক্যাসিনো কারবারে জড়িত যুবলীগ নেতাদের মধ্যে মাকসুদুর রহমানের নামও রয়েছে। সম্রাট ও খালেদের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি 'সুপার ইম্পোজের' মাধ্যমে নিজের পোস্টারে ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাসিনো-জুয়ার কারবার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা- সব কিছুতেই তার সম্পৃক্ততা। গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাট ও খালেদসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সখ্যের সুবাদে তার দাপুটে চলাফেরা ছিল সবখানে। এ সুযোগে অবৈধপথে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। গড়েছেন অবৈধ সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি। চলমান শুদ্ধি অভিযানে যুবলীগের কয়েক নেতা গ্রেপ্তার হলেও তিনি এখনও রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে ওই পোস্টার ছাপান মাকসুদুর রহমান। সেই পোস্টার লাগানো হয় ঢাকার অলিগলিসহ তার গ্রামের বাড়ি ভোলার বিভিন্ন এলাকায়। পরে তার প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। প্রধানমন্ত্রীকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। অবশ্য বিভিন্ন নেতাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে তিনি এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে মাকসুদুর রহমান বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ক্যাসিনো কারবার, জুয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা মাদক ব্যবসায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি 'সুপার ইম্পোজ' করার বিষয়টি সত্য। এটা তার গুরুতর ভুল ছিল।