আ'লীগ তৃণমূল

নেতৃত্বে পুরোনোদের আধিক্য

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

শাহেদ চৌধুরী

আগামী ১৩ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন কার্যক্রমের আপাতত সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। ২৬ অক্টোবর ফেনী জেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিলের পর ৭ জানুয়ারি থেকে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হবে। জেলা পর্যায়ের সম্মেলনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরোনো নেতারাই স্বপদে রয়ে গেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতৃত্ব আসেনি খুব একটা। এ নিয়ে নতুনদের মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে।

কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ২০-২১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় ২১তম জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে অনেকটা ঝড়োগতিতে অর্থাৎ গতকাল রোববার পর্যন্ত ৪৪ দিনে ২৩টি সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলন হয়েছে। আজ সোমবার আট জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে বাকি ৪৭টি জেলার সম্মেলন জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, নারায়ণগঞ্জ  মহানগর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ঢাকা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, ময়মনসিংহ মহানগর, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা দক্ষিণ, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম মহানগর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, রাঙামাটি, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী মহানগর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর।

গত ২৬ অক্টোবর ফেনী জেলার সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামানকে সভাপতি করা হলেও সাধারণ সম্পাদক পদে নড়চড় হয়নি। সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে গেছেন নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি। ২০ নভেম্বর নোয়াখালী জেলার সম্মেলনেও ছিল একই চিত্র। মূল নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সভাপতি পদে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক পদে একরামুল করিম চৌধুরী এমপি রয়ে গেছেন। ৫ ডিসেম্বর নীলফামারী জেলা সম্মেলনে আগের কমিটির নামই ঘোষণা করা হয়েছে। দেওয়ান কামাল আহমেদ সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক সাধারণ সম্পাদক পদে রয়ে গেছেন। ২৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার সম্মেলনেও ছিল প্রায় একই ধরনের চিত্র। সভাপতি পদে নড়চড় হয়নি। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপিই সভাপতি রয়েছেন। নির্মলেন্দু চৌধুরী ভারমুক্ত হয়ে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। একই চিত্র বান্দরবানেও। ২৬ নভেম্বর এই জেলার সম্মেলনে ক্য শৈ হ্লা আবারও সভাপতি হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইসলাম বেবী। তিনি এর আগে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রংপুর জেলা এবং মহানগরেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসেনি। রংপুর জেলার সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ভারমুক্ত হয়ে সভাপতি হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু। রংপুর মহানগরে সভাপতি পদে সাফিয়ার রহমান সফি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তুষার কান্তি মণ্ডল রয়ে গেছেন। ২৬ নভেম্বর এই দুই জেলার সম্মেলন হয়।

কুষ্টিয়া জেলায়ও আগের কমিটি বহাল রয়েছে। ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই জেলার সম্মেলনে আবারও সদর উদ্দিন খানকে সভাপতি ও আজগর আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার সম্মেলনে একজন পদোন্নতি পেয়েছেন। আরেকজন নতুন। সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সভাপতি হয়েছেন সাদেক কোরাইশী। নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দীপক কুমার রায়।

নড়াইলে কোনো নড়চড় হয়নি। নতুন নেতা আসেনি। অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র বোস সভাপতি এবং নিজাম উদ্দিন খান নিলু সাধারণ সম্পাদক পদে রয়ে গেছেন। ৩ ডিসেম্বর এই জেলার সম্মেলন হয়। একই অবস্থা যশোরেও। ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই জেলার সম্মেলনে সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম মিলন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শাহীন চাকলাদার পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বগুড়া জেলায় শীর্ষ পদে নতুন নেতা এসেছেন। সাধারণ সম্পাদক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সভাপতি হয়েছেন মজিবুর রহমান মজনু। নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রাগিবুল ইসলাম রিপু। পটুয়াখালী জেলার দু'জনই নতুন। কাজী আলমগীর হোসেন সভাপতি এবং আবদুল মান্নান সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। ২ ডিসেম্বর এই জেলার সম্মেলন হয়।

রাজশাহী জেলায় নতুন নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। গতকাল রোববার এই জেলার সম্মেলনে মেরাজ উদ্দিন মোল্লা সভাপতি ও কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। বরিশাল মহানগরে পদোন্নতি পেয়েছেন বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর। তাকে সভাপতি করা হয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক এই জেলার সম্মেলনে নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

সিলেট মহানগর এবং জেলার সম্মেলনেও নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানকে ভারমুক্ত করে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। সিলেট মহানগরের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনও নতুন। ৫ ডিসেম্বর এই দুই সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন নেতা বাছাই করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই দুই সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসা চার নেতাই নতুন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরে শেখ বজলুর রহমান সভাপতি, এসএম মান্নান কচি সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আবু আহমেদ মন্নাফী সভাপতি ও হুমায়ুন কবির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

ঢাকা বিভাগ :কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানিয়েছেন, ঢাকা বিভাগের আওতাধীন গোপালগঞ্জ জেলার সম্মেলন হবে ১৩ ডিসেম্বর। এ জেলার মধ্য দিয়ে এই দফায় সংগঠনের জেলাওয়ারি সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় কাউন্সিলের পর নরসিংদী, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার সম্মেলন হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগ :কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অ্যাডভোকেট বলেছেন, ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। তবে জাতীয় কাউন্সিলের পর ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ মহানগর ও নেত্রকোনা জেলার সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

সিলেট বিভাগ :কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জানিয়েছেন, ১১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই বিভাগের আওতাধীন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই জেলার সম্মেলন হয়েছিল। মৌলভীবাজার জেলা কমিটির মেয়াদ এখনও রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর এই জেলার সম্মেলন হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বিভাগ :কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই কেন্দ্র থেকে কুমিল্লা মহানগরের কমিটি করে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ইতোমধ্যে এই বিভাগের আওতাধীন নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সম্মেলন হয়েছে। আজ সোমবার কুমিল্লা উত্তর জেলার সম্মেলন হবে। সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিলের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা উত্তর, চাঁদপুর, কুমিল্লা দক্ষিণ, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ. কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলার সম্মেলন হবে।

রংপুর বিভাগ : কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, রংপুর বিভাগের আওতাধীন ঠাকুরগাঁও, রংপুর মহানগর, নীলফামারী এবং রংপুর জেলায় সম্মেলন হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর লালমনিরহাট এবং ১২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার সম্মেলন হবে। পঞ্চগড় জেলার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এই জেলাসহ দিনাজপুর ও গাইবান্ধা জেলার সম্মেলন হবে জাতীয় কাউন্সিলের পরে।

রাজশাহী বিভাগ :কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন বগুড়া জেলায় সম্মেলন হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে জয়পুরহাট জেলার সম্মেলন। ৭ জানুয়ারি এই জেলার সম্মেলন হবে। জাতীয় কাউন্সিলের পর নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, রাজশাহী মহানগর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার সম্মেলন করা হবে।

খুলনা বিভাগ : কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জানিয়েছেন, জাতীয় সম্মেলনের পর মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার সম্মেলন হবে। এ ছাড়াও আজ বাগেরহাট, আগামীকাল মঙ্গলবার খুলনা জেলা ও মহানগর, ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল বিভাগ :কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জানিয়েছেন, বরিশাল বিভাগের আওতাধীন পটুয়াখালী ও বরিশাল মহানগরের সম্মেলন হয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলা সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা জেলার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। জানুয়ারিতে এই তিন জেলায় সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে।