সিরাজগঞ্জে বিজয় র‌্যালিতে হামলা

আ'লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৪০

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে বিজয় র‌্যালিতে হামলা

রোববার সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত কয়েকজন- সমকাল

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ আয়োজিত বিজয় র‌্যালিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার কলেজের পূর্বদিকে কালীবাড়ি-ইলিয়ট ব্রিজ রোডে এ হামলা চালানো হয়। র‌্যালিতে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি জেলা প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। এ ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে, পৌর ভাসানী মিলনায়তনের মুক্তমঞ্চে একই সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ হামলা চালায় বলে দাবি বিএনপির। এরই জের ধরে উভয়ের মধ্যে দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে দুই পুলিশসহ উভয় দলের ৪০ নেতাকর্মী আহত হন। দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আইআই কলেজ রোড ও ইলিয়ট ব্রিজ রোড এলাকায় বিকেলেও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্যানেল মেয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান নাসিম রেজা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মামুনুর রশিদসহ সরকারি দলের ২০ নেতাকর্মী রয়েছে। এ ছাড়া, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিটলার শামিমসহ ১৮ জন সংঘর্ষে আহত হন। অন্যদিকে, সদর থানার উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম ও আবু জাফরও আহত হন।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে 'বিজয় র‌্যালি' বের হয়। শান্তিপূর্ণ র‌্যালিটি ইলিয়ট ব্রিজ রোডে গেলে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, বিজয়ের মাসে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধারা র‌্যালিটির আয়োজন করেন। অরাজনৈতিক এ কর্মসূচিতে এমন হামলা ন্যক্কারজনক।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ হাসান বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ দলীয় সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে উস্কানিমূলক হামলা চালায় ও পার্টি অফিসে আগুন দেয়।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, র‌্যালি থেকে সরকারদলীয় লোকজন উস্কানিমূলকভাবে বিএনপির লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের সাহায্য নিয়ে জেলা বিএনপির পার্টি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ইলিয়ট ব্রিজ রোডে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। আমাদের ১৮-২০ নেতাকর্মীর ওপর গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, বিজয় র‌্যালির ওপর হামলার জেরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফোরকান শিকদার বলেন, পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিএনপির লোকজন উল্টো হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যও এতে আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।