এবার জীবন্ত রোবট

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০      

সমকাল ডেস্ক

প্রথমবারের মতো অতিখুদে জীবন্ত রোবট তৈরিতে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা এর নাম দিয়েছেন 'জেনোবোট'। সুপার কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয় যে 'বিবর্তনমূলক অ্যালগরিদম' তারই সহযোগিতা নিয়ে এই সফলতা এসেছে। এরই মধ্যে বিজ্ঞান সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা কোষ দিয়ে বিভিন্ন কাঠামো তৈরিতে বিবর্তনমূলক অ্যালগরিদম প্রয়োগ করা হয়। আর তাতেই মেলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা। কোষগুলো রোবটের মতোই স্বয়ংক্রিয় আচরণ করে, অর্থাৎ নিজের মতো চলতে পারে। শুধু তাই নয়, এসব জেনোবোট কোনো নির্দিষ্ট বস্তুকেও চিনতে পারে। এরা ওই বস্তুর কাছে গিয়ে একে নিজের মধ্যে টেনে নিতে পারে। নিজের শরীরে বহন করতে পারে নির্দিষ্ট ওজনের বোঝাও।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জেনোফাস লেভিস নামে আফ্রিকার একটি ব্যাঙের ভ্রূণ থেকে হূৎপিণ্ডের কোষ সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাগারে প্রতিবার পাঁচশ' থেকে এক হাজার কোষ নিয়ে বিবর্তনমূলক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তা থেকে অনেক ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি)

কাঠামো তৈরি করা হয়। এর পর ভার্চুয়াল পরিবেশে এদের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হয়। সবচেয়ে কার্যকর কাঠামো বেছে নিয়ে সেটিকেই কাজে লাগানো হয় একই ধরনের আরও অনেক কাঠামো তৈরিতে। এরপর এদের জুড়ে বানানো হয় কাঙ্ক্ষিত জেনোবোট। এভাবে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে সফল যেসব জেনোবোট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, এদের মধ্যে একটির গায়ে দুটি খাটো ও মোটা পা রয়েছে। ফলে এটি বুকে হেঁটে সামনে এগোতে পারে। আরেকটি জেনোবোটে দেখা গেছে, পিঠের মাঝখানে একটি গর্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে এটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বোঝাও বহন করতে পারে। শুধু তাই নয়, জেনোবোটগুলো নিজেদের শরীরের ক্ষয়ক্ষতি নিজেরাই সারিয়ে তুলতে পারে।

এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের টাফট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালেন ডিসকভারি সেন্টারের পরিচালক মিশেল লেভিন বলেন, মানব সভ্যতার ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি জীবন্ত যন্ত্র তৈরি সম্ভব হলো।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে জেনোবেটের মাধ্যমে রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ওষুধ পরিবহন সম্ভব হবে। সমুদ্র পরিচ্ছন্ন করতেও এদের কাজে লাগানো যাবে। সূত্র : গার্ডিয়ান