বরিশালের গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার বাড্ডায় বান্ধবীর কাছে বেড়াতে এসেছিল ১৩ বছরের শিশু। দরিদ্র পরিবারের এই শিশুটির উদ্দেশ্য ছিল কাজ খুঁজবে। কিন্তু এতটুকু বয়সেই রাজধানীর সড়কে সে দেখল নিষ্ঠুরতা। একদল পাষণ্ড তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে ওই এলাকার একটি গুদামে আটকে রেখে নির্মম পাশবিকতা চালায়। রেহাই পায়নি তার বান্ধবীও। একই সময়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিশুটিও। তার বয়সও ১৩ বছর। গত শনিবার রাতে ওই ঘটনার পর তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

বাড্ডায় দুই শিশুর ওপর এই পাশবিকতার রাতেই রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাসায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় আরও দুই শিশু। ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী ওই দুই শিশুও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কদমতলীর ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলেও বাড্ডার ঘটনায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি। দুটি ঘটনাতেই স্বজনরা থানায় মামলা করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকাতেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী। ওই ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হলেও তিনজন পলাতক। এরই মধ্যে এক রাতে চার শিশুর প্রতি নৃশংসতা চালানোর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

বাড্ডার ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, গত ২৬ জানুয়ারি বরিশাল থেকে শিশুটি বাড্ডার ১০ নম্বর ডিআইটি রোডে বান্ধবীর বাসায় আসে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে তারা দু'জন ১৪ নম্বর রোডে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে যায় কাজ পাওয়ার আশায়। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিন যুবক তাদের মুখ চেপে তুলে নিয়ে যায়। তাদের ওই রোডের একটি গুদামঘরে আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের মুখ বেঁধে পাশবিকতা চালায়। গভীর রাতে তারা ছাড়া পেয়ে বাসায় আসে। গত রোববার পরিবারের লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশকে জানায়। এর পর পুলিশ শিশু দুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াসিন গাজী সমকালকে বলেন, শিশু দুটি একেবারেই গরিব। দু'জনের বাবাই আবার বিয়ে করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা কাজ খুঁজছিল। বাসায় ফেরার পথে তিন বখাটে তাদের ধরে নিয়ে যায়। শিশু দুটির বিবরণ অনুযায়ী সেই গুদামটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িত তিন আসামিরও নাম পাওয়া গেছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গুদামটিতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের জিনিস রাখা হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানের পিকআপ চালক কবির হোসেন থাকে। মূলত তার নেতৃত্বেই অপর দুই বখাটে ইমন ও রউফ শিশু দুটিকে ধরে নিয়ে বর্বরতা চালায়। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কদমতলীর ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও স্বজনরা জানান, ঘটনার রাতে বাবা-মা ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে বাসায় রেখে অন্য একটি বাসায় যান। ওই সময় ১৩ বছর বয়সী আরেক শিশু তার সঙ্গে বাসায় ছিল। শিশুটি তার স্বজন। ফাঁকা বাসা পেয়ে রাত ১০টার দিকে তিন ব্যক্তি বাসায় ঢোকে। এরপর দুই শিশুকে হাত-পা-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। রোববার পরিবারের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক মাহবুব আলম বলেন, দুই শিশুকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত সোহেল বেপারী, রানা বেপারী ও আক্তার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩২ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এই আসামিরা ঘটনার শিকার শিশু দুটির প্রতিবেশী।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সোমবার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মন্তব্য করুন