বাংলাদেশ-সৌদি যৌথ কমিশনের বৈঠক শেষ

বড় বিনিয়োগের আশ্বাস সৌদির

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

সমকাল প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ-জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ ৩১টি ক্ষেত্রে সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগেও সম্মত হয়েছেন সৌদি উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে ১৮০ মেগাওয়াট শক্তির একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চুক্তি সই করেছে সৌদি অ্যাকোয়া পাওয়ার। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফসি) সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে।

দু'দিনের যৌথ কমিশনের বৈঠকে সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে বৈঠক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে গত বুধবার বৈঠক শুরু হয়। সৌদি শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান গাসিম তার দেশের ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ।

বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ৪২ হাজার রোহিঙ্গার সৌদি আরবে অবস্থানের বিষয়টি উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে আগামীতে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকে তিনটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। এগুলো হচ্ছে- সৌদিতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ মামলার বিষয়ে সমস্যা, মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ চেক প্রদান সংক্রান্ত সমস্যা ও ফাঁসির আদালত থেকে নিহতের উত্তরাধিকারীর নাম এবং ফাঁসির আদালতে জমা দেওয়ার মামলা সম্পর্কিত সমস্যা। এসব বিষয়ে সৌদি পক্ষ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে ইআরডি সচিব বলেন, বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন সৌদি উদ্যোক্তারা। ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে গত বুধবার সৌদির অ্যাকোয়া পাওয়ারের সঙ্গে ১৮০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চুক্তি হয়েছে। শিগগিরই সৌদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসবেন এবং নতুন নতুন চুক্তি হবে। তবে কত টাকার বিনিয়োগ হবে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। মনোয়ার আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত সৌদি সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত, সে কারণে পরবর্তী সময়ে আলাপ-আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বাংলাদেশ থেকে যারা সেখানে গিয়ে কাজ করছেন, তারা আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তবে নিরাপত্তা এবং অপরাধপ্রবণতার বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে আমাদের।

সহযোগিতার অন্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- পাসপোর্ট, কাজের অনুমতি ভিসা এবং অন্যান্য ভ্রমণের নথি জারি করার বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা। সৌদিতে দক্ষ শ্রমশক্তির প্রয়োজনে বাংলাদেশে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন। বিনিয়োগে সৌদি আল বাওয়ানি গ্রুপকে এক হাজার একর জমি দেবে বেজা। এ বিষয়ে শিগগিরই ফিরতি সফরে আসবেন গ্রুপের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সহযোগিতা নেবে সৌদি। বিনিয়োগে সব তথ্য সরবরাহ করবে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা। সৌদিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশের সাহায্য নেওয়া হবে। এ ছাড়া অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞাপন ও প্রযুক্তি, পর্যটন, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে দুই দেশ।