নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ চায় দুদক

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

হকিকত জাহান হকি

নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার ও তাদের আইনের আওতায় আনতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য সমন্বিত অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। জেলা প্রশাসকদের কর্তৃত্বে নদী দখলমুক্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত স্বাক্ষরিত চিঠিটি পাঠানো হয়। এ ছাড়া বেদখল হওয়া নদী রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

দুদক চেয়ারম্যান সমকালকে বলেন, ১৯৭০ সালের আইনে নদী সংরক্ষণ ও নদী দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে জেলা প্রসাসকদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কমিশন মনে করে, জেলা প্রসাসকরা উচ্ছেদ করুক। জেলা প্রশাসকরা উচ্ছেদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে ওইসব তথ্য দুদকে পাঠাবেন। তখন দুদক দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি হতে পারে সমন্বিত উদ্যোগ।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সারাবিশ্বের সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। নদী না থাকলে আমাদের সভ্যতার কি হবে? সভ্যতা এক সময় হারিয়েও যেতে পারে। তাই নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা এখন থেকে শক্ত অবস্থানে থাকব। এ নিয়ে সারাদেশে দুদকের নজরদারি জোরদার করা হবে। এ ছাড়া নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে সেটি অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুদক মনে করে, নদী দখলমুক্তকরণ ও নাব্য বজায় রাখতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জেলা প্রশাসকরা একযোগে কাজ শুরু করলে জনগণের মধ্যে এ নিয়ে সাড়া পড়বে। নদী দখলদারদের তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে আছে। সে তালিকা ধরেই তারা কাজ শুরু করতে পারেন। দুদক চায় নদীগুলো দ্রুত উদ্ধার হোক।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দেশের ৬৪টি জেলার ১৩৯টি নদী ব্যাপকভাবে দখল করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ৪৯ হাজার ১৬২ জন নদী দখলকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা আজ সত্যিই হুমকির মুখোমুখি। সর্বগ্রাসী দখলদারের কারণেই দেশের নদীগুলো আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক স্ব-স্ব অধিক্ষেত্রে দখল হওয়া নদীগুলো দখলমুক্ত করবেন। একই সঙ্গে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ধরনের নির্দেশনা সংবলিত চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে বলে কমিশন প্রত্যাশা করে। সরকারি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে জেলা প্রশাসকরা আপসহীনভাবে কাজ করবে বলে কমিশন দৃঢ়ভাবে আশা করে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের মাসিক প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংরক্ষণ করতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনে ওইসব প্রতিবেদনের অনুলিপি দুদকে প্রেরণ করতে পারে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ অথবা আত্মসাতে সহযোগিতা করার অপরাধ দুদক আইনের অন্তর্ভুক্ত। কমিশন ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি খাসজমি দখলদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এটি অব্যাহত আছে। কমিশনের প্রতিরোধমূলক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হচ্ছে।

দুদকের চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারপতি ওলিভিউ ওয়েনডেল হোমসের উদ্ৃব্দতি উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়, 'একটি নদী মনোরম সৌন্দর্যের চেয়েও সম্পদ হিসেবে আরও ব্যাপক। এটি জীবনের জন্য অপরিহার্য।'