নিউইয়র্ক-লন্ডনে মারা গেলেন ৬ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০

লন্ডন ও নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আরও ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লন্ডনে তিন দিনে তিনজন এবং নিউইয়র্কে একদিনেই তিনজন মারা গেছেন।

বৃহত্তর লন্ডনের ইলফোর্ডে বসবাসরত সিলেট জেলার এক অধিবাসী গতকাল বুধবার রয়েল লন্ডন হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। মরহুমের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ  লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক কেএম আবু তাহের চৌধুরী এ সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া মঙ্গলবার সকালে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন দীর্ঘদিনের কিডনি রোগী ৪৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি। তার পৈতৃক বাড়ি সুনামগঞ্জে। গত সোমবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে মারা যান টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি। পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেল এলাকায় বাস করতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়িও সিলেটে।

যুক্তরাজ্যে এর আগে আরও তিন বাংলাদেশি মারা গেছেন করোনায়। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে এ মুহূর্তে করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৭ জন।

এদিকে, মরণঘাতী করোনাভাইরাসে মঙ্গলবার একদিনেই নিউইয়র্কে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এ নিয়ে করোনায় নিউইয়র্কে ছয় বাংলাদেশি মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার উৎসস্থল নিউইয়র্কে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান রাখারও কেউ নেই। পেশাদার সাংবাদিকরাই শুধু বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। তবে তারা সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাচ্ছেন না। করোনায় মৃত্যু হলেও অনেকেই সে তথ্য জানাতে কুণ্ঠাবোধ করছেন। আবার অন্যদিকে অন্য রোগে বা বয়সজনিত কারণে অনেক মৃত্যুকে করোনায় মৃত্যু বলে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

এমনকি জীবিতকেও মৃত বলে প্রচার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কয়েকদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইউএসএসের কার্যকরী কমিটির সদস্য জসিমউদ্দিন ও তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানা যায়। মঙ্গলবার বিকেলে বেশ কয়েকজনের ফেসবুক পেজে জসিমউদ্দিনের স্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হতে থাকে। সমকালের পক্ষে এ বিষয়ে অনুসন্ধানে খবরটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জসিমউদ্দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

তেমনি ব্রুকলিনে এক নারীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে ফেসবুকে প্রচার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গতকাল তার মৃত্যু হয়। এদিকে ইসমত উল্লা নামে আরেকজন গতকাল নিউইয়র্কে মারা গেছেন। তার মৃত্যু করোনায় হয়েছে নাকি এটি স্বাভাবিক মৃত্যু তা জানা যায়নি।