করোনার বিশ্ব চিত্র

ফের শঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

সমকাল ডেস্ক

 ফের শঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফল হিসেবে প্রশংসিত দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে আবার দুশ্চিন্তায় পড়েছে। গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ৪২ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে। এই সংক্রমণের উৎপত্তি চার্চ থেকে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ৩০ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম হলেও অনেকে দাবি করছেন, এটা দ্বিতীয় ধাক্কা হতে পারে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এটাকে চরম উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ব্রেট সাটন। গত দুই মাসের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনে। এখন পর্যন্ত মোট প্রাণহানির অর্ধেকের বেশি ঘটেছে এই পাঁচটি দেশে। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে স্যান ম্যারিনো, বেলজিয়াম, অ্যান্ডোরা, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি, সুইডেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সংক্রমণের দিক থেকে ভয়াবহ পর্যায়ে ঢুকছে বিশ্ব। ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশে রোগটি নিয়ন্ত্রণ এসেছে বটে কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে আক্রান্ত বাড়ছে উচ্চগতিতে। সংস্থাটি বলছে, দশ লাখ কভিড রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে তিন মাস। কিন্তু সর্বশেষ ১০ লাখ রোগী বেড়েছে মাত্র আট দিনে।

রাশিয়ায় দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছেন গতকাল। তবে এদিনও আক্রান্ত হয়েছে চয় হাজার ৭১৯ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৪১ হাজারের বেশি লোক। গতকাল আরও ৯৩ জনের মৃত্যুতে মোট প্রাণহানি ঘটেছে ৯ হাজার ১৬৬ জনের। পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৬০২ জন। এদিন আরও ৪৯ জনের মৃত্যুতে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৪৫ জনে।

নিউইয়র্ক রাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে করোনাভাইরাস। এ রাজ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। অন্য যে কোনো রাজ্যের তুলনায় দ্বিগুণ মানুষ মারা গেছেন দেশটির এই বাণিজ্যিক রাজধানীতে। মাসের পর মাস এই অবস্থায় ছিল নিউইয়র্কে। তবে গতকাল এ রাজ্যে মাত্র পাঁচজন মারা গেছেন। ১৫ মার্চের পর নিউইয়র্কে এটাই সবচেয়ে কম মৃত্যু।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকে দেশে বাড়লেও কেউ কেউ কিন্তু দারুণ সাফল্য দেখিয়ে চলছে। যেমন থাইল্যান্ডে গত ৩৫ দিনে একজন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়নি। গতকাল সেখানে সাতজন শনাক্ত হলেও তারা সবাই বিদেশফেরত।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সার্বক্ষণিক হিসাব রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারের হিসাবে, গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত বিশ্বে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি দুই লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ২২০ জন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৫ লাখ ৯০ হাজার রোগী। এ মহামারিতে সারাবিশ্বে রোববার আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৩ হাজার ১৭২ জন। এদিন মারা গেছেন তিন হাজার ৫৫৪ জন। আগের দিনের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। সূত্র :বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি ও রয়টার্স।