অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক

চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের শর্ত শিথিল হচ্ছে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

নানা কারণে অর্থ সংকটে পড়ে ঋণখেলাপি হয়েছেন অনেক ট্যানারি মালিক। করোনা সংক্রমণে আরও দুর্যোগে পড়েছেন তারা। আগামী মাসে কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। এ অবস্থায় শর্ত শিথিল করে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় তাদের ঋণ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সোমবার এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, যারা গত ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক হিসাবে ব্যাংকে ঋণখেলাপি, তারা করোনা মোকাবিলায় ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ পাওয়ার কথা নয়। তারা বেশিরভাগই ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে খেলাপি হয়েছেন। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করে প্রণোদনা ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে। যাতে ঈদ সামনে রেখে কোরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, চামড়া খাতের ব্যবসায়ীরা যে চলতি মূলধন ঋণ চান তা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার দরকার হবে। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম প্রস্তাব দেন, গত বছর ট্যানারি মালিকদের যে পরিমাণ ঋণ অনুমোদন হয়েছে, সমপরিমাণ অর্থ ট্যানারি মালিকদের হাতে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্ধেক টাকা সরকার দিলে ব্যাংকগুলোর জন্য সুবিধা হবে। এই প্রস্তাবে অন্যান্য ব্যাংকের এমডিরা সমর্থন দেন। তিনি আরও বলেন, গত বছর অগ্রণী ব্যাংক ১২৬ কোটি টাকা অগ্রিম চামড়া কেনার জন্য ঋণ দিয়েছে। এই টাকার মধ্যে মাত্র ৪২ কোটি টাকা পরিশোধ হয়েছে। এবার ১৮০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধিত ৪২ কোটি টাকার বেশি অর্থ ট্যানারি মালিকদের দেওয়া সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে তাদের টাকা দিতে হলে শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, চামড়া কেনার জন্য আগের বছরের দেওয়া ঋণের যে অংশ সমন্বয় হয় সাধারণত নতুন করে ওই পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় কীভাবে তাদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন সমকালকে বলেন, চামড়া খাত আইসিইউতে আছে। একে মেরে ফেলবে না বাঁচিয়ে রাখবে এ ব্যাপারে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ প্রস্তুতি ছাড়াই ২০১৭ সালে জোর করে সাভারে নেওয়া হয়েছে। অনেক ভালো ট্যানারি অনিচ্ছাকৃত খেলাপি হয়েছে। এখনও ব্যাংকের ঋণ নিরাপদ। কারণ, ঋণের চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ তাদের আছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহম্মেদ সমকালকে বলেন, সাভারে স্থানান্তরের পরে পরিবেশ দূষণের কারণে ৪১ শতাংশ রপ্তানি কমেছে। বর্তমানে চামড়া খাতে সাত হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দু-চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে, যেখানে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এর দায় তারা নেবেন না। বাকি ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এ শিল্পের মালিকদের কাছে পাওনা আছে। তিনি বলেন, যারা নিয়মিত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অনিচ্ছাকৃত খেলাপি, তাদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেশ কমেছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী ঋণের সুবিধা নিতে পারছেন না। এখন পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত আছে তাতে কোরবানির চামড়া কিনতে ঋণ এবং প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা নিতে পারবেন না। তাই বড় পরিসরে পরিকল্পনা করে সুবিধা দিতে হবে। কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা টিকে থাকলে ফিনিশড চামড়া হবে। সেখান থেকে পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।