প্রকৃতি

শ্বেত-সুন্দরী হাপরমালী

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০

মোকারম হোসেন

শ্বেত-সুন্দরী হাপরমালী

অপরূপ হাপরমালী ফুল- লেখক

এই দুর্লভ শ্বেত-সুন্দরীর সঙ্গে পরিচয় অন্তত ২৫ বছর আগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বাগানে। তারপর পর্যায়ক্রমে বলধা গার্ডেন ও নাটোরের দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ীর (উত্তরা গণভবন) ইতালিয়ান গার্ডেনেও দেখেছি। শিশু একাডেমির গাছটি বলধা গার্ডেন থেকে সংগ্রহ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক ও নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়ূয়া। তখন ভেবেছিলাম এই গাছ আমাদের দেশি নয়। কারণ নির্দিষ্ট দু'একটি বাগান ব্যতীত অন্য কোথাও দেখিনি। পরে বই-পুস্তক ঘেঁটে দেখি গাছটি আমাদের দেশি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। অথচ এই বুনো গাছটি সুদীর্ঘ সময়েও আমাদের চারপাশে ততটা বিস্তার লাভ করেনি। আমাদের আশপাশে গাছটি এতই কম যে, দেখে ভিনদেশি বলেই ভ্রম হয়। এমনকি বৃক্ষপ্রেমীদেরও নাগালের বাইরে থেকে গেল গাছটি। এ গাছ যে শুধু ফুল ও পাতার সৌন্দর্যেই অনন্য তা নয়, চমৎকার সুগন্ধিও।

হাপরমালী  (Vallaris solanacea) কোথাও কোথাও মালী নামেও পরিচিত। কিন্তু এই নান্দনিক ফুলটি আমাদের দেশে বেশ দুর্লভ। বসন্তে গাছটি তার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য মেলে ধরে আমাদের আহ্বান জানায়। হাপরমালী নমনীয় ও চিরসবুজ লতান ধরনের গাছ। এদের সারা গা দুধকষেভরা। বাহন পেলে অনেক উপরে উঠতে পারে। তবে গোড়ার ডালপালাগুলো মাটিতে গড়ায়। গাছ মাচার মধ্যে বেশ ভালো হয়। পাতার রং উজ্জ্বল সবুজ। আগা চোখা ধরনের এবং বিন্যাস বিপরীত। ফাল্কগ্দুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাতার কোলে ৫-৬টি ফুল নিয়ে ছোট ছোট থোকায় ফুল ফোটে। ফুল সাদা ও সুগন্ধি। গড়নের দিক থেকে দেখতে অনেকটা বাটির মতো। পাঁচ পাপড়ি এই ফুলগুলো অনেকটা গোলাকার। দেড় সেন্টিমিটারের মতো চওড়া হতে পারে। সাধারণত কলমেই বংশবৃদ্ধি। কোনো কোনো বাগানে সৌন্দর্যের জন্য এদের ডালপালা ছেঁটে ঝোপ বানিয়ে রাখা হয়। পুরোনো বৈজ্ঞানিক নামের শেষাংশ জার্মানির বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী ফ্রেডরিক অ্যাডলফ হেইনির স্মারণিক। গাছের লতানো শাখা ঝুড়ি বানানোর কাজে ব্যবহূত হয়। দাঁত মজবুত করতে গাছের বাকল ও ক্ষতস্থান সারাতে গাছের কষ ব্যবহারের রেওয়াজ আছে।