ফরিদপুর

হায়াত খানের প্রতারণায় নিঃস্ব অনেকে

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর

হায়াত খানের প্রতারণায় নিঃস্ব অনেকে

হায়াত খান

ফরিদপুরের হায়াত খান ওরফে নাজমুল ইসলাম খানের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন অনেকে। নানা ধরনের ব্যবসার অংশীদার বানানোর কথা বলে সেসব ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হায়াত খানের আদি বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জোনাশুর ইউনিয়নের সমসপুর গ্রামে। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম আব্দুল ওহাব খান। মায়ের নাম নুরজাহান বেগম। সেখানে অস্থায়ী ঠিকানা ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর। ১৯৮২ সালের ইস্যুকৃত পাসপোর্টে তার নাম মো. নাজমুল ইসলাম খান। অথচ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ইস্যু হওয়া নতুন পাসপোর্টে তার নাম হায়াত খান উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রী সাবিরা রেজার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম লেখা আছে হায়াত খান। এদিকে ছেলেমেয়ের জন্মনিবন্ধনে পিতার নাম মো. নাজমুল ইসলাম খানই রয়েছে।

হায়াত খান দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। সৌদি আরবের কিং ফাহাদ হসপিটালে চাকরি করতেন বলে জানা যায়। দেশে ফেরার পর থেকে গত এক যুগে তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. এমএ জলিল বলেন, এই হায়াত খান প্রতারণার দিক দিয়ে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদের চেয়েও পুরোনো ও কৌশলী। ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছিল। অনেক দিন ঘোরানোর পর আমার তৎকালীন সেনাবাহিনীতে চাকরিরত ছেলের সহায়তায় ও র‌্যাবের মধ্যস্থতায় টাকা ফেরত পেয়েছি।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার গোয়ালগ্রামের হুমায়ূন মুনশীকে কাশিয়ানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার দুই দফায় ৯ লাখ টাকা নেন হায়াত খান। চাকরিও দিতে পারেননি, ফেরত দিচ্ছেন না টাকাও। হুমায়ুন মুনশীর চাচা স্কয়ার টেক্সটাইল মিলের ডেপুটি ম্যানেজার শাহওয়ার্দী মুনশী বলেন, জমি বিক্রি করে আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন হায়াত খান। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও একটা টাকাও ফেরত পাইনি।

ফরিদপুর সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে এক্সিম ব্যাংকের একটি চেকের মাধ্যমে ব্যবসার অংশীদার করার জন্য সাড়ে ১৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন হায়াত খান। এ ছাড়া ভালো উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের ভিসা এনে তার কাছ থেকে আরও ছয় লাখ টাকা নেন হায়াত। পরে দেখা যায় সেই ভিসা ভুয়া। তার প্রতারণার পরিস্কার হলে মাহবুব তার টাকা ফেরত চান। দেই দিচ্ছি করে এক বছর ধরে তাকে ঘোরাচ্ছেন হায়াত। এখন কয়েক দিন ধরে ফোনও ধরেন না, ফরিদপুরে তার বাসায় গেলেও তাকে পাওয়া যায় না।

মাহবুবুর রহমান বলেন, জানতে পেরেছি হায়াতের ভাই-ভাতিজারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। বহু মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে হায়াত এখন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। হায়াত যাতে পালাতে না পারেন, সেজন্য ফরিদপুরের আদালতে তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছি। আগামী ২২ অক্টোবর মামলার শুনানির তারিখে হায়াত হাজির না হলে তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার কথা।

অভিযোগের বিষয়ে হায়াত খানের ব্যবহূত তিনটি মোবাইলে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস দিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী সাবিরা রেজা জানান, তার স্বামী বর্তমানে ঢাকায় আছেন। গত দুই মাস হলো তিনি ফরিদপুরের বাসায় আসেননি।

ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ওসি সুনীল কর্মকার বলেন, আমি নিজের পরিচয় দিয়ে হায়াত খানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, 'স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে মিটিংয়ে আছি, পরে ফোন দেন।' ওসি বলেন, তার বিরুদ্ধে দেওয়া এক ব্যক্তির লিখিত অভিাযোগের তদন্ত চলছে। সে যত বড় কেউ হোক, প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনা হবে।