বিএনপির কাজই হচ্ছে মিথ্যাচার করা :ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির কাজই হচ্ছে বসে বসে মিথ্যাচার করা। মিথ্যাচার আর অন্ধ সমালোচনা করা ছাড়া তাদের অন্য কোনো সক্ষমতাও নেই।

গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভায় যুক্ত হন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাকালে অসহায় মানুষের সুরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক নেতৃত্ব ও উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বিএনপি বরাবরের মতো এই মিথ্যা বলছে, সরকার নাকি করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় রাস্তায় মরে পড়ে থাকবে। আল্লাহর রহমতে এবং শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে এখনও তা হয়নি বলেই বিএনপি নেতাদের এত আক্ষেপ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা যখন মানুষের কল্যাণে দিন-রাত সেবা দিয়েছেন, বিএনপি তখন উটপাখির মতো বালুতে মাথা লুকিয়ে রেখেছিল। আর এখন নির্লজ্জভাবে বলছে সরকার ব্যর্থ। বিএনপি করোনা টিকা নিয়েও আগাম অপপ্রচার শুরু করেছে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে যে কোনো কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের রাজনীতি। তিনি বলেন, করোনার অভিঘাত সরকার সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। করোনার টিকা সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও টিকা দেওয়ার কাজও স্বচ্ছতা ও সফলতার সঙ্গে এই সরকার সম্পন্ন করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করলে যে কোনো পর্যায়ের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্রোহী এবং তাদের মদদদাতাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১১টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরির নিশ্চয়তা, চাকরির নিরাপত্তা এবং শ্রমিক কল্যাণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে শেখ হাসিনা সরকার। পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দূর করতেও নেওয়া হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ। দেশে ৪৩টি শিল্প সেক্টরের মধ্যে ৪০টি সেক্টরে শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি শতভাগ বাড়িয়ে আট হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষিকে শিল্পে রূপান্তরের পাশাপাশি সরকার কৃষিকাজে নিয়োজিতদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সভায় ধানমন্ডি প্রান্তে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিকের সভাপতিত্বে অংশ নেন দলের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং উপকমিটির সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান সিরাজসহ উপকমিটির সদস্যরা।