প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপনের দুর্নীতি মামলায় কারাগারে গেলেন টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। আসামি জামিনের আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করেন আদালত।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকা থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া ভূমি অফিসের এলএ শাখায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদার জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ সমকালকে বলেন, তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত তিন কোটি ৬১ লাখ টাকা অর্জনের দুর্নীতি মামলায় টেকনাফ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে দুদকের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানির পর আদালত এ আদেশ দেন। এ মামলায় তার স্ত্রী আমিনা খাতুনও আসামি।

সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমেদকে ২০১৭ সালে ৯ জুলাই স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিবরণী দাখিল করার নির্দেশ দেয় দুদক। তিনি ৩০ জুলাই ২ কোটি ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৪ টাকার স্থাবর সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার ৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৭৩৫ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য মেলে। তিনি এখানে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭১ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া তিনি ৩৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। কিন্তু তার কাছে ৫১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। তার পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদ সাত কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ টাকা পেয়েছে দুদক। এ কারণে দুদক অবৈধ টাকা অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল মামলা করে। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। টেকনাফ পৌরসভা এলাকায় তিনটি বহুতল ভবন রয়েছে তাদের।

অন্যদিকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে এক কোটি টাকাসহ তহশিলদার জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর কালারমারছড়া এলাকায়।

কক্সবাজার ও মহেশখালীতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক দালালদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও জয়নালের নাম উঠে এসেছে। ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ওসাসিমকে ৯৩ লাখ টাকাসহ আটক করে র‌্যাব। তারপর থেকে সেখানে ভূমি অধিগ্রহণের নানা দুর্নীতি বেরিয়ে আসতে থাকে।





মন্তব্য করুন