রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে স্থাপনার মালিক ও স্থানীয়রা বাধা দেন। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযান চালানো হয়। খবর পেয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনি বলেন, দখলদারদের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দখলদাররা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, অভিযান চলবে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আবারও অভিযান শুরু হয়।

জানা যায়, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর অ্যাভিনিউয়ে রাস্তার জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আগেই উদ্যোগ নিয়েছিল ডিএনসিসি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ অভিযানে গিয়ে দেখতে পান, স্থানীয় বাসিন্দারা আগে থেকেই জমায়েত হয়ে পথ আটকে রেখেছেন। পরে মিরপুর-১২ নম্বরের এ ব্লকের একটি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট। এর পরই অভিযান পরিচালনাকারীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন স্থানীয়রা। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে এ অবস্থা। দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সিটি করপোরেশনের একজন গাড়িচালকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। জলকামান ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে এই উচ্ছেদ অভিযান। এতে স্থানীয়দেরও সমর্থন রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে উচ্ছেদ অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে। যত ধরনের বাধাই আসুক না কেন, উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। তাদের বিভিন্ন সময়ে সিটি করপোরেশন থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তারা সে নোটিশ আমলে নেয়নি। বরং উচ্ছেদ অভিযান বাধাগ্রস্ত করছে। জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে উচ্ছেদ-পরবর্তী রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করা হবে।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মিরপুর বিভাগ জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জলকামান আনা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, রাস্তার দু'পাশে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যানে ৬৮ ফুট রাস্তার কথা বলা থাকলেও, অবৈধ দখলের কারণে রাস্তার পরিধি কমে যায়। রাস্তা দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার মৌখিকভাবে দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। স্বল্প সময়ে দোকান থেকে মালপত্র তেমন বের করা সম্ভব হয়নি। আবার অনেকে অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন উচ্ছেদের বিষয়টি তাদের অবহিত করেনি। এতে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অবাঙালি অধ্যুষিত ওই এলাকায় রাস্তার জায়গা দখল করে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে নানা ধরনের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলমান। এ থেকে সুবিধা পান স্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী। এসব স্থাপনা গড়ে ওঠার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যান ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছিল। গতকাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবারও অভিযান শুরু করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান। ডিএনসিসি জানায়, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।







মন্তব্য করুন