চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বাসা থেকে বেরিয়েই ঢুকলেন তার নির্বাচনী ক্যাম্পে। বহদ্দারবাড়ির উঠোনের এই ক্যাম্পে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা ঘিরে ধরলেন তাকে। কোথায় কী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানালেন তাকে। দুপুর ১২টার পর তিনি হেঁটে গণসংযোগ করতে করতে এলেন বহদ্দারহাটে। সেখান থেকেই উঠলেন নির্বাচনী গাড়িতে। তিনি গাড়িতে উঠতেই স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠল চারপাশ। গাড়ির আশপাশও পরিণত হলো জনারণ্যে।

ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ওয়ার সিমেট্রির পাশে থাকা বাদশা মিয়া সড়কে। বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের বাসা এখানেই। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় মুখে মাস্ক ও গোলাপি রঙের পাঞ্জাবি পরে গণসংযোগের উদ্দেশে বের হন ডা. শাহাদাত। বাসার সামনে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা ঘিরে ধরেন তাকেও। বুধবার রাতে কাজির দেউড়ির দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার কথা বললেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জোবায়ের। পতেঙ্গা থেকে আসা আহমদ হোসেন বললেন, রাতে তার বাসায় পুলিশ গেছে। আবার হালিশহর থেকে আসা শওকত মিয়া জানালেন রাতে লাগানো সব পোস্টার সকালে ছিঁড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ।

সবার কথা শুনে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেন আরও বেড়ে গেল ডা. শাহাদাতের। এ অবস্থায় গাড়িতে উঠলেন তিনি। বাসা থেকে বেরিয়ে সোজা গেলেন নির্বাচন কমিশনে। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের হামলা-মামলা এবং পুলিশি হয়রানির ৮ দফা অভিযোগ দিলেন ডা. শাহাদাত।

এভাবে চসিক নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গী হয়ে আছে ভয় ও আতঙ্ক। গতকাল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'একের পর এক অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনোটির ব্যাপারেই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিএনপির প্রচারে এ জন্য বারবার হামলা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে হামলা হয়েছে নাছিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে। আমাদের ওপর হামলা করে উল্টো মামলা করে হয়রানি করছে পুলিশ।'

তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন অতি উৎসাহী হয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে কাজ করছেন। জুবিলি রোডের নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দুপুর ১২টায় কাজির দেউড়ির দলীয় কার্যালয়ে আসেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। সেখানে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। এখানে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি।

এ সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। গত দুই-তিন দিন ধরে পতেঙ্গা থেকে শুরু করে কালুরঘাট পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। ২০-৩০ জনের গ্রুপ নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করছে, আর বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে। কাউন্সিলর প্রার্থীকেও এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না।'

উৎসবের আমেজে গণসংযোগে রেজাউল :নগরের বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম। বিকেল ৩টায় পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে গণসংযোগ করে সাড়ে ৪টায় পৌঁছেন তিনি আলকরণ ওয়ার্ডে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে সন্ধ্যায় তিনি গণসংযোগ করেন ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে। গণসংযোগের সময় উৎসবের আমেজ দেখা গেছে রেজাউলের চোখেমুখে। পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে গণসংযোগের সময় তিনি নগরের স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'নগরের ৪১ ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই মাতৃসদন গড়ে তুলব। আমাকে সেবা করার সুযোগ দিলে নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করব। এ নগরীতে পর্যাপ্ত আলোকায়নের ব্যবস্থা করব। নারী ও যুব সম্প্রদায়কে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করব।'

ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে গিয়ে রেজাউল করিম জোর দেন তথ্যপ্রযুক্তির ওপর। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের আগামীর কাণ্ডারি তরুণরা। উন্নয়নের যে স্রোত বইছে সেটি অব্যাহত রাখতে হলে নতুন ভোটারদের আস্থা রাখতে হবে নৌকার ওপর। ফিরিঙ্গিবাজারের গণসংযোগে রেজাউল করিমের সঙ্গে ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, প্রচার সম্পাদক সফিকুল ইসলাম ফারুক, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন ফারুক।





মন্তব্য করুন