অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলায়: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় অচিরেই বাংলায় দেওয়া হবে। সেজন্য কাজ চলছে। গতকাল রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। বাংলায় রায় দেওয়ার জন্য গত ডিসেম্বরে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা তার সঙ্গে ছিলেন।

উচ্চ আদালতসহ সব ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭' রয়েছে। সেটা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ওই আইনের তৃতীয় ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের সব দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি গাড়ির নম্বরপ্লেট, সাইনবোর্ড, নামফলক ও টেলিভিশনে প্রচারিত সব বিজ্ঞাপন বাংলায় লেখার বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে আদেশ এসেছে একাধিকবার। রেডিও-টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে বা বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধে রুলও জারি হয়েছে। তবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করার উদ্যোগ গতি পায়নি।

আদালতের সব কার্যক্রমে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে কয়েক বছর আগে সংসদে একটি প্রস্তাব এনেছিলেন একজন সাংসদ। পরে তা আর এগোয়নি। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও এ বি এম খায়রুল হক ছাড়াও হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারক বিভিন্ন মামলার রায় দিয়েছেন বাংলা ভাষায়। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এআরএম আমিরুল ইসলাম চৌধুরী তার সব আদেশ, নির্দেশ ও রায় বাংলায় দিতেন বলে এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন খায়রুল হক। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিচারকদের বাংলায় রায় লিখতে উৎসাহ জুগিয়েছেন।

গতবছর একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আদালতের রায় লেখার সময় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারে জোর দেন। তবে আদালতের রায় বাংলায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা বিভিন্ন আইনি পরিভাষা, যেগুলোর যথাযথ প্রতিশব্দ বাংলায় তৈরি হয়নি। সেজন্য বিচারকরা এমন কোনো অনুবাদ যন্ত্র চাইছিলেন, যার মাধ্যমে ইংরেজিতে রায় বললে তা বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাবে। গত ডিসেম্বরে সে রকম একটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি 'আমার ভাষা' নামের ওই সফটওয়্যার উদ্বোধন করা হয়।