সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একটি কুচক্রী মহল আন্তর্জাতিক কুচক্রের সহায়তায় সরকারকে হটিয়ে পুতুল সরকার বসিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। সে জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ ভালোবেসে সরকার গঠনের যে সুযোগ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। যে যার মতো বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবেন, সেটা তো চলতে পারে না।

ক্ষমতার অপব্যবহারকারী দলের নেতাকর্মীরা দলীয় নজরদারিতে রয়েছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে কেউ জড়িত থাকলে, তিনি যত বড়ই নেতাই হোন না কেন- কেউই পার পাবেন না। কে, কোথায় ও কখন কী করছেন- সবাই নজরদারিতে রয়েছেন। দলের আগামী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গুটিকয়েক লোক দলের বদনাম করলে, দল তার বোঝা নেবে না। দল করলে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। দলের ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। মনে রাখতে হবে, দলের যে কোনো পর্যায়ে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউই অপরিহার্য নন।

দলের ঢাকা মহানগর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের অবস্থান ভারি করার জন্য পকেট কমিটি গঠন বরদাশত করা হবে না। আগামী তিন মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে মহানগরের প্রতিটি ইউনিট সম্মেলন শেষ করতে হবে। এসব সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে পর্যায়ক্রমে থানা পর্যন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। শত বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আওয়ামী লীগ জনসেবা করে চলছে। যারা এই পরিবারের ঐক্যে ফাটল ধরাবেন, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা দ্বিমত থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করতে হবে। তাতেও সমাধান না হলে লিখিতভাবে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। দলের জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের যে কোনো কমিটি কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া বাতিল করা যাবে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

শোক প্রস্তাবে হানিফের নাম না থাকায় হট্টগোল :গতকালের এই বর্ধিত সভার শোক প্রস্তাবে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের নাম ছিল না। এ সময় মঞ্চ থেকে এর প্রতিবাদ জানান মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী। এ নিয়ে মঞ্চে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপনকারী মহানগর দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ শোক প্রস্তাবে মোহাম্মদ হানিফ ও সদ্যপ্রয়াত আবুল হাসনাতের নাম যুক্ত করে আবারও উপস্থাপন করলে উত্তেজনার অবসান ঘটে। এরপর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মঞ্চ থেকে দপ্তর সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন, শোক প্রস্তাব পঠিত বলে গৃহীত হলো।



মন্তব্য করুন