পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক কোন্দলের বলি হলেন একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস কক্ষে ঢুকে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করেছে এম এন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিজেএসএস)। তবে জেএসএস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পিজেএসএসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল পিআইওর অফিসে প্রশাসনিক কাজে গিয়েছিলেন ৩৪ নম্বর রূপকারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সমর বিজয় চাকমা (৩৮)। এ সময় ২ থেকে ৩ জন দুর্বৃত্ত একটি মোটরসাইকেলে গিয়ে অফিস কক্ষে ঢুকে কোনো কিছু বোঝার আগেই পেছন দিক থেকে সমরের মাথায় পিস্তল ঠিকিয়ে পর পর দুই রাউন্ড গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোগে মোটরসাইকেলে দ্রুত অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে যায়।

পুলিশ খবর পেয়ে সমরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়। ২৭ বিজিবির লে. কর্নেল আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহত সমর এমএন লারমা গ্রুপের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপজেলা শাখার ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বাঘাইছড়ি থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে তা তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে।

দীঘিনালায় বিক্ষোভ :দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি জানান, সমর হত্যার প্রতিবাদে দীঘিনালায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পিজেএসএসসহ তাদের সহযোগী সংগঠন। গতকাল বিকেলে উপজেলার লারমা স্কোয়ার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সামনে মুজিব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।



মন্তব্য করুন