চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রথম যুগ্ম জেলা জজ খায়রুল আমীনের আদালতে তিনি এ মামলা করেন।

মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশন সচিব, নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, মেয়র প্রার্থী আবুল মনজুর, এম এ মতিন, খোকন চৌধুরী, মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ এবং জান্নাতুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।

২০০৯ সালের সিটি করপোরেশন আইন, ২০১০ সালের নির্বাচনী বিধিমালার ৫৩ বিধির ২ নম্বর উপবিধিতে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. শাহাদাতের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ও আরশাদ হোসেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি বুথের ফলাফলের প্রিন্টেড কপি দেওয়া হয়। কিন্তু চসিক নির্বাচনে ৪ হাজার ৮৮৫টি বুথের মধ্যে ৯৮ শতাংশ বুথের ফলাফল দেওয়া হয়েছে হাতে লিখে। আবার সেখানে মাত্র পাঁচ শতাংশ ভোটকে বাড়িয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে। বুথ থেকে ফলাফল ঘোষণার সময় তিনটি কেন্দ্রে আমার প্রাপ্ত ভোট শূন্য দেখানো হয়েছিল। তিন দিন পরে রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত যে কপি দেওয়া হয়েছে, সেখানে আমাকে ২৮টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে। এভাবে ইভিএমের ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। এজন্য আমরা নির্বাচন বাতিল এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে পুনরায় নির্বাচন চাইছি। এজন্য আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।

ডা. শাহাদাতের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, চসিক নির্বাচন ছিল একেবারে ত্রুটিপূর্ণ। প্রশাসন, পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়। আবার কেন্দ্রের বাইরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়। ইভিএমে মাত্র ৪-৫ শতাংশ ভোটকে পরবর্তী সময়ে বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করে দেখানো হয়েছে। এভাবে নিজেদের বানানো ফলাফলের মাধ্যমে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।



মন্তব্য করুন