রাজধানীর ওয়ারীতে শিশু মো. হাসানকে (১২) গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার পর জড়িত সন্দেহে মো. সোহেল এবং রোববার জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করলে তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে শিশুটিকে হত্যার বিবরণ দিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু হাসানের খালু জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে ব্যবসার সূত্র ধরে জাহিদ ও সোহেলের ওই বাসায় যাতায়াত ছিল। তারা ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করত। টিকিট বিক্রির টাকা খরচ করে ফেলেছিল সোহেল। ওই টাকা জোগাড় করতে হাসানের খালুর বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট করার ছক কষা হয়েছিল। এই ছকে সোহেলের সঙ্গে যোগ দেয় জাহিদও। তবে ঘটনার দিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জামালের বাসা লুট করার সময় তা দেখে ফেলে ১২ বছরের হাসান। তার মাধ্যমে ঘটনা ফাঁস হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কায় শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে সোহেল। আগে থেকেই বাসার সামনে পাহারা দিচ্ছিল সহযোগী জাহিদ। যখন শিশুটি লুটের দৃশ্য দেখে ফেলে তখন বিষয়টি জাহিদকে জানায় সোহেল। তাৎক্ষণিকভাবে সোহেলের মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে জাহিদ বলে, 'ওকে মেরে ফেল, নইলে বিপদে পড়তে হবে।'

রাজধানীর ওয়ারীর পদ্মনিধি লেনের একটি বাড়ির ছয়তলায় খালার পরিবারের সঙ্গে থাকত শিশু হাসান। ঘটনার দিন তার খালা বাসার নিচে গিয়েছিলেন কেনাকাটা করতে। অন্য বাসিন্দারাও বাসার বাইরে ছিলেন।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রযুক্তিগত তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে এই হত্যার সঙ্গে এখন পর্যন্ত জাহিদ ও সোহেলের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই তারা দু'জন পালিয়ে যায়। তারা পার্বত্য এলাকায় গিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। তার আগেই ধরা পড়ে। ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার ৪৮ হাজার টাকা খরচ করে ফেলে সোহেল। ঘটনার পর বাদীপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ করে, ওই বাসা থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর জাহিদ ও সোহেলের কাছে দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার আর কিছু ইমিটেশনের গহনা পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, স্বর্ণালঙ্কার লুট করার পর জামাল ভূঁইয়ার বাসায় আরেকজনকে হত্যার ছক কষেছিল সোহেল। সোহেল ও জাহিদের মধ্যে এমন কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। সোহেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শিশু হাসানের ছোট খালা হীরার। তবে বড় বোন ববী অন্যত্র হীরার বিয়ে ঠিক করে ফেলেন। এটা আগে থেকেই জানত সোহেল। এই কারণে ক্ষুব্ধ ছিল সে। বাসায় লুট করার পাশাপাশি সুযোগ পেলে ববীকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। তাই কাপ্তানবাজার থেকে ছুরিও কেনে সোহেল। ববী ঘটনার সময় বাসায় না থাকায় তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে শিশুটিকে হত্যার পর যখন রিকশাযোগে সোহেল পালাচ্ছিল তখন সে জাহিদকে বলে, 'স্বর্ণ লুট করতে গিয়ে ওই বাসার একটাকে তো মারলাম, পরে আরেকটাকে মারা হবে।'

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হান্নানুল ইসলাম বলেন, সোহেল এক সময় অস্ত্র ও মাদক কারবারে জড়িত ছিল। জাহিদকে নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট ও ববীকে হত্যা করতে গিয়েছিল সে। বাসার ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ লুট করার দৃশ্য দেখে ফেলার তাদের নাম প্রকাশ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় শিশুটিকে মেরে ফেলে।

মন্তব্য করুন