বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশের আগের দিনই এ মহানগরীকে পাশের জেলাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নগরীর তিনটি স্থানকে পছন্দ করে যেকোনো একটিতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল নগর পুলিশের কাছে। তবে খোলা জায়গায় সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি বিএনপি। তাদের কোনো কনভেনশন সেন্টারে সমাবেশ করতে বলেছে নগর পুলিশ।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর সঙ্গে অন্যান্য জেলার সব ধরনের বাস যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীদের পুলিশ ধরপাকড় করছে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন বলেন, তারা নগরীর জিরো পয়েন্ট মোড়, মনি চত্বর ও বড় মসজিদের সামনের যেকোনো একটিতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি। তবে বাইরেই মহাসমাবেশ করবেন তারা। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস সমকালকে বলেন, বিএনপি নেতারা যেসব জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়েছেন সেখানে অনুমতি দেওয়া সম্ভব না। কারণ তারা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে অনুমতি চেয়েছেন। সেখানে অনুমতি দিলে মানুষের ভোগান্তি হবে। সেজন্য তাদের ইনডোরে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীর কোনো জায়গায় মাইকিং, ব্যানার, পোস্টার, লিফলেটও সাঁটতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তার এলাকা নাটোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। তাদের বাড়িতে ঘুমাতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ আক্রমণাত্মক আচরণ করছে, যাতে কেউ সমাবেশে আসতে না পারে। রাজশাহীতেও বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় চলছে। তবে নগর পুলিশের মুখপাত্র রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিএনপির কোনো লোকজনকে গ্রেপ্তার করেনি মহানগর পুলিশ। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ মিথ্যা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন, 'ঢাকা, বরিশাল, খুলনায় সমাবেশ বানচাল করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। রাজশাহীর সমাবেশ বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের এই চেষ্টাও সফল হবে না।' তিনি বলেন, 'সরকার পরিবহন শ্রমিকদের দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। ভোটবিহীন সরকারকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করে হেঁটেই সমাবেশে যোগ দেবে। যানবাহন বন্ধ করে দিয়ে মানুষের ভোগান্তিই সৃষ্টি করা হবে শুধু।'

বাস বন্ধে ভোগান্তিতে মানুষ :বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন গতকাল সকাল থেকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব রুটেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। রাজশাহীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাবি, বাস চলাচল করলে হামলার আশঙ্কা আছে। তাই শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা বাস চলাচল আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকারের চাপে তারা বাস বন্ধ রেখেছেন।

রাজশাহী থেকে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা অনেকেই কাউন্টারে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে দূরদূরান্তে রওনা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন উজ্জ্বল হোসেন। সরাসরি গাড়ি না থাকায় তিনি রাজশাহী এসে গাড়ি পরিবর্তন করতে গিয়ে জানতে পারেন বাস বন্ধ। বাধ্য হয়ে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছি। এসে দেখি বাস বন্ধ। জরুরি কাজে আজ (সোমবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতেই হবে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

নগরীর সিরোইল বাস টার্মিনালে কথা হয় কারিমুল হোসেন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি তার পরিবার নিয়ে অটোরিকশা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, তার চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়া প্রয়োজন। কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন বাস বন্ধ।

মন্তব্য করুন