কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আরও দুই হাজার ২৫৯ জন রোহিঙ্গা গতকাল বুধবার দুপুরে ভাসানচরে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর জাহাজে তারা সেখানে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার তাদের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

এ তথ্য জানিয়ে অতিরিক্ত ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, পঞ্চম দফায় রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি ভাসানচরে পৌঁছানোর পর সেখানকার প্রক্রিয়া শেষে তাদের ঘরে তুলে দেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া এই ধাপের দ্বিতীয় দলটি (এক হাজার ১০০ রোহিঙ্গা) গতকাল সকালে ২১টি বাসে ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম রওনা দেয়। সেখান থেকে আজ বৃহস্পতিবার তাদের ভাসানচরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান জানান, এবার তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি হেরফের হতে পারে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলা, ধর্ষণ-নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে বাস করছে। তাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে পালিয়ে আসে। রোহিঙ্গাদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ মানুষকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

এদিকে শুরুতে গত ৪ ও ২৯ ডিসেম্বর তিন হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ওই চরে স্থানান্তর করা হয়। পাঁচ দফায় ১১ হাজার ৯৬৬ জন সেখানে পৌঁছে বসবাস শুরু করেছে। এ ছাড়া এরও আগে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ রোহিঙ্গাকেও গত বছরের মে মাসে সেখানে নেওয়া হয়। সর্বশেষ গতকাল পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দল ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম রওনা দেয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

১৩ হাজার একরের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

মন্তব্য করুন