একসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত ছিল না। তদবির, আপস, তথাকথিত সততার সার্টিফিকেট দিয়ে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় মানুষ এই সংস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর দুদকের বদনাম ঘুচতে থাকে।

আগামী ৯ মার্চ নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ও কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বিদায় নিচ্ছেন। বিদায়ের প্রাক্কালে বর্তমান কমিশনের মূল্যায়ন সামনে এসেছে। বিশ্নেষকরা বলছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আপসহীন থাকার কারণে এই কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা সৃষ্টি হয়। একসময় দুদককে নখদন্তহীন বাঘ বলে নিন্দা করা হতো। এখন দুদকের মেরুদণ্ড বেশ শক্ত। গত পাঁচ বছরে ভয়ে অভিযুক্ত কোনো কোনো দুর্নীতিবাজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অনেকে দেশের ভেতরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দুর্নীতি দমনে আইনি সংকট বা ঘাটতি ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এই দুদককেই নখদন্তহীন ব্যাঘ্র বলে উল্লেখ করেছিলেন।

পাকিস্তান আমল থেকে বয়ে আনা 'দুর্নীতি দমন ব্যুরো' ছিল প্রায় নিষ্ফ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে ২০০৪ সালে বিএনপির শাসনামলে স্বাধীন ক্ষমতা বাড়িয়ে 'দুর্নীতি দমন কমিশন' আইন করা হলেও সরকারের দোটানায় তা খুঁড়িয়ে চলছিল। ২০০৭ সালে অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার কমিশনকে চাঙ্গা করে। আবার আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৩ সালে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত করতে হলে পূর্ব অনুমতির বিধান চালু করে। এতে সংস্থাটির গতি রুদ্ধ হয়। ২০১৬ সালে ইকবাল মাহমুদ চেয়ারম্যান হওয়ার পর কমিশনের সদ্ব্যবহার করতে থাকেন।

সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের প্রতি ৮৬ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে। এটা এই কমিশনের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক অর্জন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে এই কমিশনের নানামুখী পরিকল্পনা মানুষের মধ্যে এক ধরনের আশা সৃষ্টি করেছে। দুদকের ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনাকে এক ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এসব উদ্যোগ তাদের সদিচ্ছারই প্রতিফলন। তবে দুদকের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করতে হবে।

বিশ্নেষকরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুদককে শক্তিশালী করতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। দুর্নীতি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার, দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা প্রদান, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সুপারিশ প্রদান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সারাদেশে জনমত গড়ে তোলার কাজ করেছেন। এগুলো জনগণের নজর কেড়েছে।

দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেছেন, 'সিস্টেম এমনভাবে করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়; সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল হয়- আমরা সে কাজটিই করেছি। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। তবে দুদকের কাছে দেশের মানুষ যে পরিবর্তনটুকু আশা করে, সেই মাত্রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সেটি এই কমিশনের অপূর্ণতাও বলতে পারেন। হয়তো আরও কিছু করার সুযোগ ছিল, সেগুলো করা সম্ভব হয়নি।'

গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, 'আমাদের কমিশনের চেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। আমরা শ্রম-মেধা দিয়েছি, আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছি। প্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা ইউনিট ছিল না- সেটা হয়েছে। আর্মড ইউনিট ছিল না- সেটাও হয়েছে। আসামিদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য হাজতখানার ব্যবস্থা করেছি। কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ করেছি। দ্বিগুণ জনবল হয়েছে। স্টাফদের কল্যাণে কাজ করা হয়েছে। তাদের ঝুঁকি-ভাতা দেওয়া হয়। রেশনের ব্যবস্থা করেছি। নিজেদের মধ্যে পঙ্কিলতা, দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। মানুষের সরকারি সেবা পেতে ঘুষ, হয়রানি, ভোগান্তি দূর করতে খবর পাওয়ামাত্র তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন ১০৬ চালু করেছি। অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের তফসিলের বাইরে প্রচুর অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই সংস্কারমূলক নানা কাজ করা হয়েছে।'

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে আরও বলেন, 'আমরা দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একটা বার্তা দিতে পেরেছি। সেটা হলো- কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা দুর্নীতি করবেন, তাদের আজ হোক কাল হোক- আইনের মুখোমুখি হতে হবে।'

এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, পদ্ধতিগত দুর্বলতার সুযোগে মানুষ দুর্নীতি করে। দুর্নীতি বন্ধ করতে সরকার, প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

ইকবাল মাহমুদের কমিশন আরও বেশ কিছু কাজ করেছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে নজরদারি, প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি করা, সশস্ত্র ইউনিট গঠন ইত্যাদি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ সরকারের ২৬টি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব, দক্ষ আমলা ইকবাল মাহমুদ দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটানা লড়াই করেছেন।

গ্রেপ্তার অভিযান :বিদায়ী কমিশন ২০১৬ সালের মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরু হয় গ্রেপ্তার অভিযান। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় ৩৫৭ আসামিকে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৮০০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা ইউনিট :দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের জন্য সঠিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতির আগাম ও সঠিক তথ্য কেবল গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমেই পাওয়া যেতে পারে। তাই কমিশন ২০১৮ সালে একজন পরিচালকের নেতৃত্বে গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করে। ২০১৯ সালে কমিশন প্রতিটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। বর্তমানে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামি গ্রেপ্তার ও প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সম্পদ পুনরুদ্ধারে নীতিমালা :দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একটি পৃথক সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠন করা হয়। ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সময়োপযোগী ও সর্বজনীন নীতিমালা করা হয়। ক্রোক করা সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ইউনিটটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি না হয়, এ জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা কার্যকর করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী অপরাধলব্ধ সম্পদ ক্রোক, অবরুদ্ধ, বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ডের বিবরণ নিয়মিতভাবে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়।

ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব :বর্তমান সময়ে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণে ডিজিটাল সরঞ্জাম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অধিকাংশ মানুষ দুর্নীতির প্রমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও তাদের ব্যবহূত কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করে রাখে। দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যবহূত কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ওই সব ডিভাইস থেকে দুর্নীতির প্রমাণ বের করতে কমিশনের নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। এই ল্যাবে কম্পিউটার, মোবাইল, অডিও, ভিডিও, সিল, স্বাক্ষর ফরেনসিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে। এতে কাজের ফলাফল সহজেই পাওয়া যাবে।

অটোমেশন :এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে 'দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ' কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রতিরোধ ও মামলা পরিচালনার কাজ নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে অটোমেশনের কাজ চলছে। প্রকল্পের মাধ্যমে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সফটওয়্যার, ইনভেনটরিবিষয়ক সফটওয়্যার, গ্রন্থাগারবিষয়ক ডাটাবেজ, সফটওয়্যার, সুরতি ফাইল ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সফটওয়্যার, সততা সংঘের তথ্যসংবলিত ডাটাবেজ, দুর্নীতিবিষয়ক অপরাধ ও অপরাধীর তথ্যসংবলিত ডাটাবেজ তৈরির কার্যক্রম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সততা স্টোর :উত্তম চর্চার বিকাশে সততা স্টোর স্থাপন জরুরি। ইতোমধ্যে কমিশন চার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর গঠন করেছে। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠনের পাশাপাশি সততা স্টোর স্থাপনের ফলে সংশ্নিষ্ট শিক্ষার্থীদের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দুদক হটলাইন ১০৬ :২০১৭ সালের ২৭ জুলাই দুদক হটলাইন ১০৬ চালু করা হয়। অভিযোগকারীরা হটলাইনে যে কোনো ফোন, মোবাইল থেকে টোল ফ্রি কল করে অভিযোগ জানাতে পারছেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হটলাইনে প্রায় ৪২ লাখ কল এসেছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে হটলাইনে প্রাপ্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা :কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ ঝুঁকি-ভাতা ও রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

ই-নথি চালু :২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কমিশনের সব কার্যালয়ে ১৮ ডিজিটের ই-নথির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনিক নথির প্রায় ৯০ শতাংশ নথি ই-নথিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট :অপারেশনাল কাজে দুদকের জন্য ২০ সদস্যের সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট চালু করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ অভিযানে আইন প্রয়োগকালে এই ইউনিটের সদস্যরা দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। আর্মড ইউনিট পরিচালনা পদ্ধতি-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

রেকর্ডরুম :এই কমিশন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি রেকর্ডরুম স্থাপন করেছে। মূল্যবান রেকর্ডপত্র রেকর্ডরুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে রেকর্ডরুম ম্যানুয়াল করা হয়েছে। এই ম্যানুয়াল অনুসারে রেকর্ডরুম পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাজতখানা :বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা আসামিদের সাময়িকভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে রাখতে একটি হাজতখানা তৈরি করা হয়েছে।

ট্র্যাকিং মেশিন :দুর্নীতি মামলার আসামি ও দুদকের নামে চাঁদাবাজদের মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। গোয়েন্দা ইউনিট এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের পোশাক :অলিখিতভাবে হলেও দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট পোশাক ব্যবহার করছেন। তারা সাদা কাপড়ের শার্ট ও কালো কাপড়ের প্যান্ট ব্যবহার করছেন। অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুদকের মনোগ্রামসংবলিত নির্দিষ্ট জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফসহ অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করছেন।

ফাঁদ অভিযান :সরকারি দপ্তরে বসে ঘুষ বন্ধে বিদায়ী কমিশন ফাঁদ মামলা পরিচালনা জোরদার করে। ব্যাপক অভিযান চালিয়ে গত পাঁচ বছরে কমিশন ৮৭টি সফল ফাঁদ মামলা করে। প্রতিটি মামলায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের সাজা :দুদকের মামলায় সাজার হার একসময় ২০ শতাংশে নেমে এসেছিল। বর্তমান কমিশন প্রসিকিউটিং সংস্থা হিসেবে এ ক্ষেত্রে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কমিশন মনে করে, আসামির সাজা হলো কমিশনের সক্ষমতা পরিমাপের অন্যতম সূচক। কমিশনের এসব সংস্কারমূলক কার্যক্রমের ফলে দুদকের মামলায় সাজা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত তিন বছরে সাজার হার ধারাবাহিকভাবে ৬৩ শতাংশ বা তার ওপরে রয়েছে। ২০২০ সালে সাজার হার ৭৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কৌশলগত পরিকল্পনা :জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেডের সহায়তায় পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৭-২০২১ প্রণয়ন করা হয়। এর আলোকে দুদকের কার্যক্রম গতিশীল, কার্যকর ও দৃশ্যমান হতে থাকে। কমিশনের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনায় আটটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি, কার্যকর অনুসন্ধান ও তদন্ত, দক্ষতার সঙ্গে মামলা পরিচালনা, কার্যকর প্রতিরোধ ও শিক্ষা কৌশল, উদ্ভাবনী গবেষণা ও উন্নয়ন, রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা সমুন্নতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ। কমিশন নিয়মিতভাবে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম মনিটরিং করছে।

প্রশিক্ষণ :দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে আলাদা প্রশিক্ষণ অনু বিভাগ করা হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক হাজার কর্মকর্তাকে দেশ-বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন, ফরেন এইড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ফলো দ্য মানি, কম্প্রিহেনসিভ ইন্টেলিজেন্স, প্রকিউরমেন্ট, সিনিয়র সিকিউরিটি কোর্সসহ বিভিন্ন কোর্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা, কর্মস্পৃহা ও নৈপুণ্য আরও শানিত হয়েছে বলে কমিশন মনে করে।



মন্তব্য করুন