'হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে'- স্লোগানে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের ১৬তম লোকনাট্য উৎসব। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পুঠিয়া রাজবাড়ী মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। উৎসবে থিয়েটারের মাধ্যমে বর্তমান অশান্ত বিশ্বকে মানবিক করে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

উদ্বোধনের আগে পুঠিয়ার শাহবাজপুরের লাঠিদরের উদ্যোগে বাংলাবাদ্যের সঙ্গে লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৫টায় শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর অতিথিরা উৎসবের বেদিমূলে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ও নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজক পুঠিয়া থিয়েটার। পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা। অনুষ্ঠানে গ্রাম থিয়েটারের প্রায় ৬০টি সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবের সার্বিক আয়োজন নিয়ে নাট্যকার অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, 'এই উৎসবের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থাকতেই হবে, এটা আমরা চাই। তবে থিয়েটার বেঁচে থাকে মানুষের সম্পৃক্ততায়। এটাই আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। চার দেয়ালে ঘেরা থিয়েটার প্রকৃত থিয়েটার নয়। এর মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে থিয়েটারের সম্পৃক্ততা আমরা হারাতে বসেছি। মনে হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতির শিক্ষা থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন করে ফেলছি।'

এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসবের প্রধান সমন্বয়কারী ও পুঠিয়া থিয়েটারের সভাপতি কাজী সাইদ হোসেন দুলাল। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ৩০ বছর ধরে পুঠিয়ায় তারা এই উৎসব করছে। সব বছর করতে পারেনি। এবার তারা ১৬তম উৎসব করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে গ্রাম থিয়েটার।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি বলেন, আমি এই উৎসবে থাকতে পেরে গর্বিত বোধ করছি। এই সংস্কৃতির চর্চা যত বাড়বে, ভারতের মানুষ বাংলাদেশে আরও বেশি আসবে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনসুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ।

উৎসবে এবার 'নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন লোকনাট্য সম্মাননা পদক-১৪২৭' প্রদান করা হয় বিশিষ্ট অভিনেতা ও সংগঠক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক ও সংগঠক রতন দাসকে। তবে অনুষ্ঠানে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।

আজ শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মঞ্চায়িত হবে সিরাজগঞ্জের প্রসূন থিয়েটারের নাটক 'লালন'। সাড়ে ৭টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় 'লোকনৃত্য' এবং রাত সাড়ে ৮টায় নাটোরের লালপুরের চলন নাটুয়ার পরিবেশনায় যাত্রাপালা 'মা মাটি মানুষ' প্রদর্শিত হবে।









মন্তব্য করুন