বিকেল ৫টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন কলেজছাত্র তৌসিফ হাসান (২০)। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা। এর আগে তৌসিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার দুই বন্ধু। সেখানে তারা জানান, একটি বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন চার তলা ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তৌসিফের। তবে তৌসিফকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায় তারা।

গত বুধবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের ধামর উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে ঘটে এ ঘটনা। তৌসিফের বাসা পৌরসভা সদরের পশু হাসপাতাল মোড়ে। তিনি উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেকের ছেলে। ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভূগোল বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তৌসিফ। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই তানভীর নামে তার এক বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়িয়া থানায় অভিযোগ করেছেন নিহতের বড় ভাই কামরুজ্জামান। ঘটনাস্থলে নেশা জাতীয় গামের টিউব উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম জানান, তৌসিফের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং কান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।

নিহতের ভাই কামরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, তাদের ধারণা, তৌসিফকে হত্যা করা হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তানভীর নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের পর থেকেই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

ধামর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র ধাম বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ শুরুর পর থেকেই একটি কিশোর গ্যাং আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।

ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের সহকারী সাব্বির আহমেদ জানায়, বুধবার রাতে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী নামাজের জন্য বাইরে ছিলেন। ওই সময় ফাঁকা পেয়ে হয়তো কিশোররা ভেতরে প্রবেশ করে।



মন্তব্য করুন