এশিয়ার ২২ দেশের সেরা ৩০০ উদ্যোক্তার তালিকায় বাংলাদেশের ৯ তরুণ স্থান করে নিয়েছেন। ব্যবসা প্রযুক্তি, সামাজিক প্রভাব এবং প্রথমবারের মতো চালু রিটেইল (খুচরা) ও ই-কমার্স ক্যাটাগরিতে ফোর্বসের তালিকায় তারা স্থান করে নিয়েছেন। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের বাছাইয়ে একসঙ্গে এতজন জায়গা পেলেন।

উদ্ভাবনী ধারণা আর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের কম বয়সী যে তরুণরা এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন, তাদের নিয়ে ২০১১ সাল থেকে তালিকাটি প্রকাশ করছে ফোর্বস।

গত সোমবার প্রকাশিত ২০২১ সালের 'থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়া' তালিকায় থাকা বাংলাদেশের ৯ উদ্যোক্তা ছয়টি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন। তারা হলেন- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআইভিত্তিক উদ্যোগ গেজ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা শেহজাদ নূর তাওস ও মোতাসিম বীর রহমান, ক্র্যামস্ট্যাকের প্রতিষ্ঠাতা মীর সাকিব, হাইড্রোকোপ্লাসের প্রতিষ্ঠাতা রিজভানা হূদিতা ও জাহিন রোহান রাজীন, অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটির প্রতিষ্ঠাতা শোমী হাসান চৌধুরী ও রিজভি আরেফিন, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ ইমতিয়াজ জামি এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম পিকাবোর সহপ্রতিষ্ঠাতা মোরিন তালুকদার। গত বছর এ তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশের রাবা খান ও ইশরাত করিম।

এবারের তালিকার বিষয়ে ফোর্বস বলেছে, মহামারির মধ্যেও উদ্যোগ ও উদ্যম থেমে নেই। মহামারিকালে নতুন স্বাভাবিকতার এ সময়ে তালিকার স্থান পাওয়া উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, অ্যাক্টিভিস্ট ও তরুণ নেতারা কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছেন। তারা আরও জানিয়েছে, এবারের নির্বাচিতদের মধ্যে ১৭টি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে দেড় কোটি ডলার তহবিল পেয়েছে।

তালিকার ভূমিকায় ফোর্বস বলেছে, এ প্রজন্মের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে এই ৩০০ উদ্যোক্তা টিকে ছিলেন এবং দীর্ঘ লকডাউনের মধ্যে অনেকটা সফলভাবে এগিয়েছেন। সব ধরনের প্রতিকূলতা ও মহামারির অনিশ্চয়তার মধ্যেও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে উদ্যোগ ও ব্যবসা এগিয়ে নিয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কঠিনতর সংকটের মধ্যেও উদ্যোগ শুরুর সাহস দেখিয়েছেন। যখন অন্যরা প্রতিবন্ধকতা দেখেছেন, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ সম্ভাবনাও খুঁজে পেয়েছেন। সাময়িকীটি বলেছে, এশিয়ার নারীরাও অনেক এগিয়েছে। এ বছরের নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের গড় বয়স ২৬ বছর ৪ মাস। বরাবরের মতো এ বছরের তালিকার বড় অংশ রয়েছে ভারত ও চীনের উদ্যোক্তাদের দখলে।

দেশের উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা :ফোর্বসের এ বছরের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন রিটেইল অ্যান্ড ই-কমার্স ক্যাটাগরিতে স্থান করে নেওয়া মোরিন তালুকদার পিকাবোর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ২০১৬ সালের ১৫ মে তার কোম্পানি যাত্রা শুরু করে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বাইরে এ বছর দেশব্যাপী দেড়শ দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এবার প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে সেরাদের তালিকায় বাংলাদেশের তিনটি উদ্যোগ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো 'গেজ'। এটি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্টার্টআপ। এ উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন শেহজাদ নূর তাওস ও মোতাসিম বীর রহমান। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ উদ্যোগ অনলাইন লেনদেনের জন্য ভিজুয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি সরবরাহ করে।

প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে সেরার তালিকায় থাকা আরেকটি বাংলাদেশি কোম্পানি ক্র্যামস্ট্যাক। এর প্রতিষ্ঠাতা মীর সাকিব। এ স্টার্টআপ একটি ব্যবসাভিত্তিক ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম, যা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করে। এআই নিয়ে কাজ করা আরেক কোম্পানি হাইড্রোকোপ্লাস এই ক্যাটাগরিতে ফোর্বসের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এ স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছেন রিজভানা হূদিতা ও জাহিন রোহান রাজীন।

ঢাকাভিত্তিক এই উদ্যোগ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। তারা নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির গুণগত মান যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন সরকারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে তারা সেবা দিচ্ছেন।

'থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়ার' সামাজিক প্রভাব ক্যাটাগরিতে সেরার তালিকায় অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটির সহপ্রতিষ্ঠাতা শোমী হাসান চৌধুরী ও রিজভি আরেফিন স্থান পেয়েছেন। কুয়ালালামপুরভিত্তিক সেবামূলক এনজিওটি তরুণদের সংগঠিত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। ২৩টি দেশে তাদের দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে, যারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়। এ ক্যাটাগরিতে সেরার তালিকায় স্থান পাওয়া আরেক বাংলাদেশি উদ্যোগ অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। আহমেদ ইমতিয়াজ জামি ২০১০ সালে এটি গড়ে তোলেন। সেই থেকে তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, মানবাধিকার ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করছেন। ফাউন্ডেশনটি ১০ লাখের বেশি মানুষকে সহায়তা দিয়েছে এবং ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাদের নিজস্ব স্কুল ও অনুদান কর্মসূচি রয়েছে। এই ফাউন্ডেশন প্রায় ১০ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি করোনা মহামারিতেও কাজ করছে।

মন্তব্য করুন