আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেনা তুললেও বিএনপিই এ দেশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ধারক ও বাহক। এর বিপরীতে শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক মতবিনিময় সভায় সংযুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের শাসনামলে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। তাদের আমলে তারা দুর্নীতিবান্ধব ও দুর্নীতি-সহায়ক ছিল। এখন তারা তাদের সেই ব্যর্থতা ও দুর্নীতিপরায়ণতা ঢাকতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা কল্পিত অভিযোগ হাজির করে।

সেতুমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও নগদ অর্থ সাহায্যের প্রস্তাবে এবারের ঈদে ৩৬ লাখ পরিবারের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অর্থ সাহায্য পৌঁছে গেছে। যারা এই অর্থ বিতরণের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে গতবারও অনেক অভিযোগ এসেছিল এবং অনেককেই শাস্তি পেতে হয়েছে। এমনকি অনেক জনপ্রতিনিধিকেও কারাগারে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য নিয়ে এবার এ ধরনের অপকর্ম এবং অর্থ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবেন, তারা গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তাই এবার যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। যারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য, শুধু তারাই পাবেন; মুখ চেনা লোকেরা নন। গরিব মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে কোনো অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তি অনিবার্য।

ময়মনসিংহ সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় সংযুক্ত হন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি আরও বলেন, ঈদ সামনে রেখে জনস্বার্থ বিবেচনায় আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সরকার শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে। জেলার গাড়িগুলো জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কোনোভাবেই জেলার সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো গাড়ি ঢাকা জেলার সীমারেখার বাইরে যেতে পারবে না। সিটির ক্ষেত্রেও সিটি পরিবহন সিটির বাইরে যেতে পারবে না।

তিনি বলেন, করোনা কখন কমে, আবার কখন বাড়ে- সেটা বলা যায় না। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে সবার শিক্ষা নিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব ও শতভাগ মাস্ক পরিধান করতে হবে।

মন্তব্য করুন