বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আসা ট্রাক শ্রমিকরা কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এতে বন্দরে কর্মরতরা করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সকল বিধি মেনেই বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে।

করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সংক্রমণ রোধে গত ২৬ এপ্রিল সীমান্তে যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর বিশেষ অনুমতি নিয়ে কেউ কেউ দেশে ফিরলেও তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এসব যাত্রীর কোয়ারেন্টাইন নিয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করছে আমদানি পণ্যবাহী আড়াইশ থেকে তিনশ ভারতীয় ট্রাক। এই ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ভারতে মাস্ক ও পিপিই পরে থাকলেও বাংলাদেশে ঢুকেই সেসব খুলে ফেলছেন এবং বন্দরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই ভারতীয় চালক-শ্রমিকদের এমন অবাধ চলাচলে ঝুঁকিতে পড়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা।

সাইফুল নামে বাংলাদেশি এক ট্রাক শ্রমিক বলেন, পণ্য লোডের জন্য দীর্ঘক্ষণ বন্দর এলাকায় অবস্থান করতে হয়। তারা মাস্ক পরে ঘুরলেও ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকরা খোলামেলা চলাফেরা করছেন। সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল বলেন, বন্দরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছি। ভারতীয় ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে ও থার্মাল স্ক্যানারে চালক-শ্রমিকদের তাপমাত্রা যাচাইয়ের পরই তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, দু'দেশে যাতায়াতকারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকদের নির্ধারিত এলাকার বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

মন্তব্য করুন