রাতের ফ্লাইটে সৌদি আরব যাবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে আসা জহর মিয়া। সঙ্গে রয়েছেন তার মা জাহানারা বেগম। লকডাউনের কারণে নিজের জেলা থেকে বিভিন্ন বাহন পরিবর্তন করে তারা যখন হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, ইফতারের সময় তখন প্রায় হয়ে গেছে। এদিকে লকডাউন শুরুর পর প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিমান চালু করলেও বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ। ফলে শুধু জহর ও তার মা নন, অপেক্ষমাণ অন্য যাত্রী ও তাদের স্বজনরাও পড়ে যান বিপাকে।

ঠিক সে সময় মাগরিবের আজানের আগে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও তাদের স্বজনদের হাতে ইফতারের প্যাকেট পৌঁছে দেয় আল-খায়ের ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ। বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের মাধ্যমে এভাবে প্রতিদিনই আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালে অপেক্ষমাণ পাঁচ শতাধিক যাত্রী ও স্বজনদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি এই সংস্থাটি।

সরেজমিন বিমানবন্দরের টার্মিনালে দেখা যায়, অপেক্ষারত স্বজনরা সারিবদ্ধভাবে ইফতার সংগ্রহ করছেন। ওই রাতে সৌদি আরবে যাবেন বলে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন আব্দুর রহমান। সঙ্গে পানি ছাড়া কিছুই ছিল না তার। আজানের আগে ইফতার পেয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'ইফতার নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তাই আসার পথে পানি ও বিস্কুট নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এ সময়ে ইফতার পেয়ে ভালো লাগছে।'

আল-খায়ের ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজীব সমকালকে বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরু থেকেই প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। লকডাউনে প্রবাসী ও তাদের আত্মীয়দের কথা বিবেচনা করে রোজার শুরু থেকেই আমরা বিমানবন্দরে ইফতার দিচ্ছি। এ কাজে সহযোগিতা করছেন আর্মড পুলিশ সদস্যরা। প্রতিদিন মাগরিবের আজানের আগ মুহূর্তে আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন পাঁচশ রোজদার ব্যক্তির মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজু, ছোলা, বেগুনি, মুড়ি, খেজুরের সঙ্গে পোলাও কিংবা খিচুড়ি। শুধু বিমানবন্দরেই নয়- রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, যেখানে জনসমাগম বেশি, সেসব স্থানেও এসব রান্না করা ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। রোজার শেষ দিন পর্যন্ত এ সেবামূলক কার্যক্রম চলবে। মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন সহস্রাধিক ব্যক্তির ইফতারের ব্যবস্থা করে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। শুধু ঢাকাতেই নয়, বিভিন্ন জেলায়ও সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রান্না করা ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে এ সংস্থা। ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের এই কার্যক্রম চলছে।

ইফতার বিতরণের পাশাপাশি চলছে সংস্থাটির মাসব্যাপী খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। সারা মাসজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে সংস্থাটি দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, সেমাই, গুঁড়া দুধ, ছোলা, উন্নতমানের খেজুর ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর প্রায় ছয় হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন।

ইফতার এবং খাদ্য সহায়তার আওতায় আসা এসব মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি জাগাতে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বে ৩৩টির দেশে একযোগে চলছে তাদের এই কার্যক্রম।

মন্তব্য করুন