বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেরেবাংলা সড়কে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি ভবন নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চলমান বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিভিন্ন অংশ খসে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে ভবনটির কারণে সংকুচিত হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে দুই বিদ্যালয়ের জন্য ব্যবহূত খেলার মাঠটি।

পরিত্যক্ত ভবনটির মালিক চহুৎপুর-হরিপাশা এস্কেন্দার আলী শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার বছর আগে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মিত হলেও অপসারণ করা হয়নি পরিত্যক্ত ভবনটি। অভিযোগ রয়েছে, একই আঙিনার মধ্যে থাকা চহুৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় দখলদারিত্ব বহাল রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি না ভেঙে নানা কৌশল খুঁজছে প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পেছনে শেরেবাংলা সড়কে একই আঙিনায় চহুৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এস্কেন্দার আলী শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ের অবস্থান। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে মাঠের বাম পাশে কোনোভাবে দাঁড়িয়ে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভঙ্গুর ভবনটি। এর বিপরীত দিকে চহুৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন। মাঠের উত্তর পাশে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নির্মিত চারতলা ফাউন্ডেশনের দুই তলা ভবনে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। গত চার বছরে পুরোনো ভবনটি ব্যবহূত না হওয়ায় সেটি ক্রমশ নাজুক হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

চহুৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চয় কুমার খান বলেন, প্রতিদিন ভবনটির বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও মহল্লার শিশু-কিশোররা মাঠে খেলতে এসে পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকছে। যে কোনো সময় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তা ছাড়া মাঠের মধ্যে এ পরিত্যক্ত ভবনটি গোটা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যহানি করছে। শিশু-কিশোররাও খেলার জন্য মাঠটি ব্যবহার করতে পারছে না। এস্কেন্দার আলী শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী শরিফা তাজ বলেন, ভবনটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য তারা উপজেলা শিক্ষা কমিটির কাছে আবেদন করেছেন। সংস্কার করা না গেলে সেখানে টিনশেড ভবন করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুকুল মুখার্জী একই কথা বলেন। তবে তিনি বলেন, ভবনটি অপসারিত হলে বিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার করে এলাকার শিশু-কিশোররা উপকৃত হবে। এ জন্য তিনি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ঊর্ধ্বমুখী করে কক্ষ বৃদ্ধি করার বিকল্প প্রস্তাবও রাখবেন কর্তৃপক্ষের কাছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা এ প্রসঙ্গে বলেন, পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়ে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা সভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে ভবনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি দাবি করেন, পরিত্যক্ত ভবনের জমির মালিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পুরোনোটি সংস্কার করতে না পারলে প্রয়োজনে সেখানে নতুন আরেকটি অবকাঠামো করে আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হবে।

এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে চহুৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো, নুর হোসেন সেন্টু বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দান করা ১২ শতাংশ জমি এর দাতা সুলতান শরীফের বাড়ির সামনে। দুই বিদ্যালয়ের জমিদাতা একই বাড়ির হওয়ায় স্থানীয় সিদ্ধান্তে দুটি বিদ্যালয় একই ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দলিল নেই। তিনি বলেন, পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণ করে মাঠ বড় করলে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপকৃত হবেন।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনীবুর রহমান বলেন, সদর উপজেলায় কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার জন্য সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশলী দল সরেজমিন গিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিষয় : বিদ্যালয়ের বিরোধ

মন্তব্য করুন