জাতিসংঘ মহাসচিব পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্র গতকাল শুক্রবার এই নিয়োগ দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তাকে এ পদে আরেক মেয়াদে রাখার জন্য সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করে নিরাপত্তা পরিষদ। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হবে। খবর রয়টার্সের।

২০১৭ সালে বান কি মুনের পর জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচিত হন ৭২ বছর বয়সী গুতেরেস। ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান।

নিয়োগ পাওয়ার পর শপথ নিয়ে গুতেরেস বলেছেন, 'ছোট-বড় সব দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্কের বিকাশ, সেতুবন্ধন নিশ্চিত করতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব এবং আস্থা গড়ে তোলার জন্য অবিরাম কাজ করে যাব।'

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিন বলেন, জাতিসংঘ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে তিনি আশা করছেন, আগামী পাঁচ বছর আবারও গুতেরেস মহাসচিব পদে থাকায় আগের দিনগুলোর তুলনায় সামনে আরও শান্তি, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি দেখতে পাবে বিশ্ব। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এর জন্য কঠোর পরিশ্রম, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়বে।'

মহাসচিব পদে প্রথম মেয়াদে গুতেরেস জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, সবার জন্য কভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা ও ডিজিটাল সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। ২০১৭ সালে যখন তিনি মহাসচিবের দায়িত্বে আসেন, জাতিসংঘকে তখন সিরিয়া ও ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ এবং সেখানকার মানবিক সংকট মোকাবিলায় ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। ওই দুই যুদ্ধ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, এরই মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে মিয়ানমার ও ইথিওপিয়ার টাইগ্রে সংকট।

জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে প্রথম মেয়াদে গুতেরেস চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের ঘটনায় তেমন সোচ্চার ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মানবাধিকারের সুরক্ষা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে গুতেরেসের অবস্থান সবসময় দৃঢ়।

বিষয় : গুতেরেস

মন্তব্য করুন