চট্টগ্রামে বাসের ধাক্কায় দুই রিকশাযাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে নগরীর স্টিলমিল বাজারের খালপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- রেজাউল করিম (২২), দাদি আরেফা বেগম (৫০) ও নাতনি আয়েশা বেগম (৮)। রেজাউল করিম খালপাড় মাজার গলির আয়নাল হকের ছেলে এবং আরেফা বেগম স্টিলমিল বাজারের বার্মা কলোনির বাসিন্দা আহমদ হোসেনের স্ত্রী। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ও গতকাল মিলে আরও ১০ জন মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। এর মধ্যে কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার চালকসহ তিনজন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে দুটি বাস ও এক অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দু'জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পিকআপ চাপায় দায়িত্বরত এসআই, ময়মনসিংহে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী, চট্টগ্রাম নগরীতে ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী এবং পাবনার চাটমোহরে মোটরসাইকেল আরোহী আট মাসের শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর গুলশানে বাসের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বিস্তারিত সমকাল প্রতিবেদক, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে- চট্টগ্রাম ও পটিয়া: বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহতের পর ঘটনাস্থল থেকে বাসসহ চালককে আটক করেন পথচারীরা। এরপর খবর দেওয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি বাস ও চালককে থানায় নিয়ে আসে। চালকের নাম আশিক। এ ব্যাপারে ইপিজেড থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ইপিজেড থানার ওসি বলেন, একটি বাস এক পথচারীকে ধাক্কা দিলে লোকজন চিৎকার করে বাসটি ধরার চেষ্টা করেন। বাসটি পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন পথচারী যুবক এবং দু'জন রিকশাযাত্রী।

এ ছাড়া নগরের খুলশী থানার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে জিইসি অংশে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তামিম নামে এক যুবক মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইউনেস্কো সিটি সেন্টারের সামনের অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তামিম হাটহাজারী উপজেলার ধলাই ইউনিয়নের কাজিরহাট এলাকার শাহ আলমের ছেলে।

এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মইজ্জ্যারটেক এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাস (একটি বিআরটিসির, আরেকটি মিনিবাস) ও একটি সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কুমিল্লা :ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইউটার্ন করার সময় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাহবুব (৫০) নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, জোড়কানন এলাকার কানন হোটেলের অদূরে প্রাইভেটকারটি হঠাৎ চট্টগ্রামগামী লেন থেকে ঢাকাগামী লেনে ইউটার্ন করতে গেলে খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস প্রাইভেটকারটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দু'জন এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে চালক মারা যান। নিহতরা হলেন- ঢাকার খিলগাঁও রামপুরা এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে প্রাইভেটকার চালক বেলাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মিরাজ (১৮) এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামন্দী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ফখরুল আলম দুলাল (৫২)।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান জানান, বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়েছে। গতকাল দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কালামুড়িয়া এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন কসবা থানার এসআই মো. মোস্তফা। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ এসে হঠাৎ পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মাথায় ও শরীরের অন্যান্য অংশে গুরুতর আঘাত পান তিনি। মোস্তফার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এসআই মোস্তফা ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার পৈইহারা গ্রামের মৃত আলী আজমের ছেলে। গতকাল জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

ময়মনসিংহ :ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যাত্রীবাহী বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী শানজিল মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ সড়কের ধারা বাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শানজিল উপজেলার ধারা ইউনিয়নের বীরগুছিনা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। ধারা বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে হালুয়াঘাটগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়।

চাটমোহর (পাবনা) :চাটমোহর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের পূর্বটিয়ারতলা গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে চাটমোহরের দিকে যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম (২৫) ও তার স্ত্রী পপি খাতুন (২০)। পপির কোলে ছিল আট মাসের শিশু রওশন। পথে শাহাপুর দরগা গেট এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা শ্যালো ইঞ্জিনচালিত করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেল আরোহী সবাই। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত বাবা-মাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাজধানীর গুলশানে বাসের ধাক্কায় মায়ের মৃত্যু : মা ও মেয়ে গিয়েছিলেন মার্কেটে কেনাকাটা করতে। বাসায় ফিরে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার কথা ছিল তাদের। সেই উদ্দেশে রাজধানীর নর্দ্দা এলাকা থেকে তারা বাসার উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিলেন। তবে পৌঁছানোর আগেই গুলশানের শাহজাদপুরে বাসের ধাক্কায় তারা আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মা শেখ ফৌজিয়া মাহমুদ রিপাকে (৪২) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত কলেজছাত্রী সৈয়দ আনিশা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে শাহজাদপুরের সুবাস্তু নজর ভ্যালি মার্কেট এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান সমকালকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। দুর্ঘটনায় দায়ী বাসটিকে এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তবে পালিয়ে গেছেন চালক। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

বিষয় : বাসের ধাক্কা রিকশায় বাসের ধাক্কা

মন্তব্য করুন