ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র ও যুব, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস ও তৃণমূল। তাদের দাবি- নিশীথ প্রামাণিক বাংলাদেশের নাগরিক। তবে এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলেছেন নিশীথ প্রামাণিকের বড় জ্যাঠা দক্ষিণা রঞ্জন প্রামাণিক। তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে নিশীথ প্রামাণিকের বাবা বিধুভূষণ ২৬ বছর বয়সে ভারতে যান। বিধু ভারতেই বিয়ে করেন। কোচবিহারের খারিজা বালাডাঙ্গা বাজার ভেটাগুড়ি দিনহাটা শহরে নিশীথের নানাবাড়ি। সেখানে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে। এদিকে নিশীথ প্রামাণিক ভারতীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় তার পিতৃভূমি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের ভেলাকোপা গ্রামে বইছে খুশির বন্যা। চলছে মিষ্টি বিতরণসহ নানা আয়োজন।

নিশীথ প্রামাণিক পেশায় শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা ছেড়ে যুক্ত হন তৃণমূলের রাজনীতিতে। ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা যুব সাধারণ সম্পাদক। ভুল বোঝাবুঝির কারণে দল থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। কোচবিহার আসন থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ভাতিজা ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণা রঞ্জন প্রামাণিক বলেন, নিশীথ আমাদের দেশের জন্যও গর্বের। আমরা আশা করছি নিশীথ তার পিতৃভূমির জন্যও কিছু করবে।

হরিনাথপুর ইউনিয়নের মেম্বার জিয়াউর রহমান বলেন, নিশীথ প্রামাণিকের বড় জ্যাঠা মহিমা রঞ্জন প্রামাণিক ভারতে যাত্রাগান করতেন। মহিমা রঞ্জন মারা গেছেন। তিনিও সেখানকার নাগরিক ছিলেন। নিশীথ প্রামাণিক জন্মসূত্রেই ভারতীয় নাগরিক।

এদিকে গতকাল সোমবার নিশীথ প্রামাণিকের পিতৃভূমি ভেলাকোপা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় আনন্দমুখর পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের মুখে বিট্টুর (নিশীথ প্রামাণিকের ডাক নাম) গুণগান। এর আগে সবার মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ও মঙ্গল কামনায় স্থানীয় মন্দিরে পূজার্চনা দিয়েছে স্বজন ও স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানায়, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকায় ভেলাকোপা গ্রামের প্রামাণিক বাড়ির নাম এই অঞ্চলের সবাই জানে। বাড়ির বড় ছেলে মহিমারঞ্জন মারা গেছেন। বাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আছেন দক্ষিণারঞ্জন ও দিলীপ কুমার প্রমাণিক। এই গ্রামের কেউ নিশীথ ওরফে বিট্টুকে ভিনদেশি মনে করেন না। পূজা, স্বজনের বিয়ে বা ও কোনো উৎসব হলেই তিনি ছুটে আসতেন। এলাকার হিন্দু-মুসলমান সব সম্প্রদায়ের মানুষ তার আচার-আচরণে মুগ্ধ।

নিশীথদের বাড়িতে কথা হয় গ্রামের তরুণ রফিকুল ইসলাম রফিকের সঙ্গে। তিনি বললেন, রাজনীতিতে নিশীথ ওপার বাংলায় নাম করেছেন জানি। কিন্তু এত দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন, কেউ ভাবেননি।

হরিনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জরিদুল হক বলেন, আমরা ভীষণ খুশি। ভদ্র ব্যবহার তাকে এই গ্রামে জনপ্রিয় করে রেখেছে। আমাকে দাদু বলে ডাকে নিশীথ। আজ আমার পরিচয় নিশীথের দাদু হিসেবেই দিতে চাই। আমরা চাই সে আরও ওপরে উঠুক।

নিশীথের জ্যাঠাতো ভাই সঞ্জিত প্রামাণিক বলেন, এক সময় নিশীথ ভারতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, টেলিছবি বানানো তার নেশা। ভালোবাসেন ক্রিকেট খেলতে। ২০১৯ সালে নিশীথ প্রামাণিক বিজেপির টিকিটে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে কোচবিহার থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটায় বিধায়ক হন। পরে তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন।

৩৫ বছর বয়সী নিশীথ প্রামাণিককে কেন্দ্র্র করে গ্রামবাসীর উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ও অন্যদেশের নাগরিক। তারপরও ভালোবাসা তার পিতৃপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত বাংলাদেশের এই মাটির জন্য। সুযোগ পেলেই সে এখানে চলে আসত। ফুটবল, ক্রিকেট নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মেতে থাকত। ২০১৮ সালে বিট্টু শেষবারের মতো পলাশবাড়ী আসেন। এবার মন্ত্রী হওয়ার পর আমরা তাকে নতুনভাবে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।



মন্তব্য করুন