দেখতে টসটসে, রসে ভরপুর। ভেতরে নেই বীজ, ঘ্রাণও বেশ। বারোমাস চাষ হবে এ লেবু। ঘুরবে কৃষকের ভাগ্যের চাকাও। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বিনা লেবু-১ চাষে সফলতা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ফলছে বারোমাসি বিনা লেবু-১। ভিয়েতনামের একটি স্থানীয় জাত থেকে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় গবেষণার পর মেলে সফলতা। আশানুরূপ ফলন হওয়ায় ২০১৮ সালে 'বিনা লেবু-১' কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য নিবন্ধিত করে জাতীয় বীজ বোর্ড। জেলার গৌরীপুর উপজেলার কাশিয়ারচর এলাকায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে এ লেবু চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন বিনার বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে ময়মনসিংহসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চাষ হচ্ছে এ লেবু।

প্রচলিত জাতের তুলনায় বিনা লেবু-১-এর ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। তাই এ লেবু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। গৌরীপুর উপজেলার কাশিয়ার চর এলাকার কৃষক ফজলুল হক জানান, যে জমিটি লিজ নেওয়া হয়েছে, এগুলো পতিত অবস্থায় ছিল। এই জায়গায় যে লেবুর এত ভালো ফলন হবে, তা কল্পনাতীত ছিল। তা দেখে এলাকার যুবকরাও এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

বিনা লেবু-১-এর উদ্ভাবক ও বিনার উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, লেবু বাংলাদেশে জনপ্রিয় একটি টক জাতীয় ফল। ভিয়েতনাম থেকে এ লেবুর কৌলিক সারি সংগ্রহ করে পরে সারিটি লেবু চাষ উপযোগী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর ফলন ভালো হওয়ায় সরকার এটিকে একটি উচ্চ ফলনশীল লেবুর জাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি আরও জানান, বিনা লেবু-১-এর বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এটি বারো মাসই ফলন দেয়। এটি সুগন্ধিযুক্ত ও বীজবিহীন। এতে রসের পরিমাণও বেশি ও ভিটামিন-সি এর পরিমাণও বেশি। প্রতি গাছে প্রতি মৌসুমে ২৫০-৩০০টি লেবু ধরে। এ লেবু চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এর কদর দিনদিনই বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম জানান, সারাদেশে চাষিদের মাঝে সুস্বাদু এই লেবুর জাত ছড়িয়ে দিতে উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। বিনার উদ্ভাবিত লেবু চাষের মাধ্যমে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করেই বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব। কলমের চারা রোপণের ১০ থেকে ১১ মাসের মধ্যেই পাওয়া যায় ফল। একটি পরিপকস্ফ ফলে রস থাকে প্রায় ৩৮ শতাংশ। আর একটি গাছ ফল দেয় অন্তত ১৫ বছর। সারাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই লেবুর চারা কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, উচ্চ ফলনশীল নানা জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিরন্তর কাজ করছেন বিনার বিজ্ঞানীরা।



মন্তব্য করুন