বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকারের উদাসীনতা ও অযোগ্যতার কারণেই করোনা সংক্রমণে জনজীবন আজ বিপন্ন। এ অবস্থায় নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গত বুধবার ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই পরামর্শ দেন। ওই দিন রাতে দলটির সিনিয়র নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ফিরোজায় গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির নেতারা দীর্ঘ এক বছর পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে যতক্ষণ কথা বলেছি তাতে তার শারীরিক সমস্যা ছাড়া আর কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। তার মনোবল এখনও বেশ শক্ত রয়েছে। বরং তিনি সিনিয়র নেতাদের করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আরও সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলেছেন। নেতাদের মধ্যে কারা করোনা টিকা নিয়েছেন তারও খোঁজখবর নিয়েছেন। ওই নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়া করোনা মুক্ত হলেও পুরোনো রোগের চিকিৎসায় তাকে দ্রুত বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল ইসলামও বলেছেন, খালেদা জিয়া এখন 'মোটামুটি ভালো' আছেন। তিনি করোনা মুক্ত হওয়ার পরে, প্রকৃতপক্ষে এক বছর পর সবাই একসঙ্গে ঈদের দিন তার সাক্ষাৎ পেয়েছি। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তার সামান্য জ্বর এসেছিল।

দেশবাসীর জন্য খালেদা জিয়ার কোনো বার্তা আছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশবাসীর কাছ থেকে তিনি দোয়া চেয়েছেন এবং ঈদের দিনে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। করোনা থেকে যাতে দেশমুক্ত হতে পারে সেজন্য আল্লাহতালার কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।

রাত ৮টায় মহাসচিবের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান গুলশানের ফিরোজায় প্রবেশ করেন। এক ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে তারা বেরিয়ে আসেন। এই সাক্ষাতের সময়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনও ছিলেন।

এদিকে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ মহানগর ও যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মী প্রয়াত রাষ্ট্রপতির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।





মন্তব্য করুন