গত বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম মাদকের কাঁচামাল অ্যামফিটামিন পাঠানো হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ায়। কার্গো বিমানে ওঠার আগেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজ থেকে ধরা পড়ে মাদকের চালানটি। ওই মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে এক নারী ও তার স্বামীর নাম। 'আইডিএস ক্রস ওয়ার্ল্ড' নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার আড়ালে বিদেশে মাদক পাচার করে আসছিলেন জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহুরা।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, এই চক্রে রয়েছে আরও আটজন। জুনায়েদ-ফাতেমা এবং ওই আটজনকে অভিযুক্ত করে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তবে বিমানবন্দরে চালান আটকের ঘটনায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ছয় আসামির মধ্যে একজনেরও মাদক পাচারে সংশ্নিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম অ্যামফিটামিন জব্দের ঘটনায় ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে চালানটি জব্দ করা হয়। চালানটি ফেডেক্স কুরিয়ারের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় ওই সময় গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে। তারা হলেন- ফেডেক্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, কর্মী রাসেল মাহমুদ, এমজিএইচ গ্রুপের লোডিং সুপারভাইজার কাজল টি গোমেজ, ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের জেনারেল ম্যানেজার গাজী শামসুল আলম, কার্গো ভিলেজের হেলপার হামিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম।

মামলাটি তদন্ত করেন ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের পরিদর্শক মো. ফজলুল হক খান। তিনি সমকালকে বলেন, এজাহারভুক্ত ছয়জনের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া যায়নি। মাদক পাচারে সম্পৃক্ত ১০ জনের নাম বেরিয়ে এসেছে তদন্তে। তাদের অভিযুক্ত করে ১০ মার্চ আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটভুক্তরা হলেন- আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিকী, জুনায়েদের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহুরা, ফুফাতো ভাই দীন ইসলাম, ভগ্নিপতি বাবুল মজুমদার, জুনায়েদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম, গাড়িচালক বাপ্পি হাসান, ব্যবসায়িক অংশীদার সতীশ কুমার সিলভারাজ, কুরিয়ার সার্ভিস ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের কর্মচারী রেজাউল হক বাবুল, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের লোডার শ্রমিক রুবেল হোসেন দেওয়ান এবং মিটফোর্ডের কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বান্টি। তাদের মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সতীশ কুমার সিলভারাজ ও ফাতেমা তুজ জোহুরা পলাতক।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় জুনায়েদের আইডিএস ক্রস ওয়ার্ল্ড কোম্পানির কার্যালয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার স্ত্রী পরিচালক। এটির চেয়ারম্যান তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার ভারতের নাগরিক সতীশ কুমার সিলভারাজ। তারা বিভিন্ন পণ্যের কার্টনের ভেতর বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাদকের একাধিক চালান বিদেশে পাঠিয়েছেন।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম অ্যামফিটামিন অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর জন্য কৌশলে জিন্স প্যান্টের মধ্যে রেখে কার্টনের প্যাকেট করা হয় বছিলার অফিসে। এই অ্যামফিটামিন পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বান্টির কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। বান্টি যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের নাগরিক হাবিব মাস্টার ও রাজ খানের যোগসাজশে অ্যামফিটামিন আমদানি করেন। আসামি রুবেল হোসেন মতিঝিলে ইউনাইটেড এক্সপ্রেসে সাতটি কার্টন জিন্স প্যান্টের পার্সেল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ঠিকানায় বুকিং করেন। এরপর আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ফেডেক্সের মতিঝিল অফিস হয়ে চালানটি বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজে যায়। সেখানে স্ক্যানারে মাদকের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় এবং চালানটি ধরা পড়ে।



মন্তব্য করুন