কুমিল্লায় জুমার নামাজের খুতবার আগে দ্বিতীয় আজান মসজিদের ভেতরে নাকি বারান্দায় দেওয়া হবে- এ নিয়ে মুসল্লিদের দু'পক্ষে সংঘর্ষে আবু হানিফ খান (৪৫) নামের এক মুসল্লি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কুড়াখাল গ্রামের বাইতুন নুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ ওই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় জুমার নামাজ পণ্ড হয়ে যায়। এলাকায় বিবদমান রেজভিয়া ও সুন্নি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ শাহীন ভূঁইয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মসজিদের ভেতরে ইমামের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে খুতবার আগে দ্বিতীয় আজানের (সানি আজান) প্রথা চালু ছিল। দেশের প্রায় সব মসজিদেই এ প্রথাই চলে আসছে। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় রিজভিয়া গ্রুপের সিদ্ধান্তে মসজিদের বারান্দায় খুতবার আজান চালু করা হয়। এ নিয়ে এলাকার সুন্নি মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। গতকাল তাজুল ইসলাম খান নামের এক ব্যক্তি মসজিদের বারান্দায় দ্বিতীয় আজান দিতে গেলে এর প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক মাস্টারের সঙ্গে সহসভাপতি হাবিব খান তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে মুসল্লিদের দু'পক্ষ ছুরি, লাঠি, রড ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে মসজিদের ভেতর ও বারান্দা রক্তাক্ত হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে আহত আবু হানিফকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুরাদনগর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত আবুল খায়ের ও ইমন খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহত হানিফের মা, স্ত্রী ও চার শিশু সন্তান রয়েছে।

মসজিদ কমিটির সহসভাপতি হাবিব খান বলেন, দীর্ঘ ২৪-২৫ বছর ধরে মসজিদে জুমার নামাজে খুতবার আগে দ্বিতীয় আজান ইমামের সামনেই দেওয়া হচ্ছিল; কিন্তু রিজভিয়া গ্রুপ বারান্দায় আজান দেওয়ার প্রথা চালু করে। এর প্রতিবাদ করাতেই পরিকল্পিতভাবে একদল লোক রামদা, লোহার রড, লাঠিসোটা নিয়ে মুসল্লিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ ঘটনায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন