রাজধানীর রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং পীর দিল্লুর রহমানের সব সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আট ভুক্তভোগীর করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে দরবার শরিফ বা পীরের মুরিদদের কোনো অংশ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত কিনা, পিবিআইকে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। দুটি তদন্তই দুই মাসের মধ্যে শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীরা হলেন- আব্দুল কাদের, মাহবুবুর রহমান খোকন, ফজলুল করিম, জয়নাল আবেদিন, মো. আলাউদ্দিন, জিন্নাত আলী, আইয়ুবুর হাসান শামীম, নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার। তাদের অভিযোগ, পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানব পাচারসহ ফৌজদারি মামলা করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।

এসব মামলা কারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনটিও দু'দিনের মধ্যে দিতে বলেছেন আদালত।

এ ছাড়া হয়রানি, অপদস্থ করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফৌজদারি মামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিশেষ শাখা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরাধ তদন্ত বিভাগ), ঢাকার ডিসি, ডিএমপি কমিশনার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপমহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান ও মামলাগুলোর বাদীসহ ২০ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

গায়েবি মামলা করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগে দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান এবং তার মুরিদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আট ভুক্তভোগী। এতে তাদের সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদক চেয়ারম্যানের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এর আগে অন্যের জমি দখল করায় ওই দরবার শরিফের পীরের কাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুরিদদের ৪৯টি মামলার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দেখে আশ্চর্য হন হাইকোর্ট।

পীর দিল্লুর রহমানের মুরিদ চক্রের 'অস্তিত্বহীন' বাদীর মামলা চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ জুন হাইকোর্টে রিট করেছিলেন ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন। ওই আবেদনের পর হাইকোর্ট এসব 'অস্তিত্বহীন' মামলার বাদীকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

মন্তব্য করুন