সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়কের (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৬ সালের জুন মাসে। গতকাল শনিবার প্রকল্পটির 'স্ট্যাটিক লোড টেস্ট' এর পাইলট পাইল বোরিং কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। এখানে নয়ছয় করার সুযোগ নেই।

প্রকল্পটি আগামী বছরই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। উড়াল সড়কের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে পরীক্ষামূলক ২২টি পাইলিং করা হবে। যার প্রথমটির কাজ গতকাল মন্ত্রী উদ্বোধন করেন। নকশা প্রণয়ন শেষে মূল কাজ শুরু হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে।

ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়ক হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে নির্মাণাধীন প্রথম ঢাকা এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে ঢাকা ইপিজেড থেকে চিটাগং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার পথ বিনা বাধায় চলতে পারবে যানবাহন। দেশের চার প্রধান মহাসড়ক- ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-উত্তরবঙ্গ যুক্ত হবে এ দুই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো আশুলিয়া এলিভেটেডেও চলতে টোল দিতে হবে। উড়াল সড়কের চার লেন থাকবে যান চলাচলে। দু'পাশে থাকবে সার্ভিস লেন। উড়াল সড়কে গাড়ির ওঠানামায় ১৬টি র‌্যাম্প থাকবে। যার দৈর্ঘ্য হবে প্রায় পৌনে ১১ কিলোমিটার। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় সোয়া ১৪ কিলোমিটার সড়ক, প্রায় দুই কিলোমিটার ফ্লাইওভার, প্রায় পৌনে তিন কিলোমিটার সেতু, ১৮ কিলোমিটার ড্রেন ও ডাক্ট নির্মাণ করা হবে। এজন্য জমি অধিগ্রহণ করা হবে ২৮১ একর।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ শেষেও প্রকল্প এলাকার বিদ্যমান রাস্তাটি রেখে দেওয়ার কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, বিদ্যমান রাস্তাটি যেভাবে আছে, তা থাকুক। মানুষ বিকল্প হিসেবে রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলাচলে যেন ভোগান্তি না হয় এবং সড়ক চলাচল উপযোগী থাকে, সেদিকে মনোযোগী হতে বলেন কর্মকর্তাদের।

চীন সরকারের সঙ্গে জিটুজি চুক্তির আওতাধীন এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার বহন করবে পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা এবং সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। চীনের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক) এ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেবে। প্রকল্পের কাজ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। এ বিষয়ে ঋণচুক্তি হবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান, আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মাদবর, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন প্রমুখ। ২০১৭ সালে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। তখন ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থায়ন না পাওয়ায় এখনও কাজই শুরু হয়নি। তাই নতুন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন