রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে (৫৬) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার মধ্যরাতে চিৎমরম ইউনিয়নের আগাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নেথোয়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা নেথোয়াই মারমার বাড়িতে ঢুকে তাকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে রাতেই লাশ উদ্ধার করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে কাপ্তাইয়ের চারটি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে চিৎমরম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নেথোয়াই মারমার নাম ছিল। আগামী ১১ নভেম্বর চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে নেথোয়াই মারমার মৃত্যুর খবরে গতকাল দুপুরে রাঙামাটি হাসপাতাল মর্গে তার লাশ দেখতে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীসহ ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমাসহ নেতাকর্মীরা।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে অপারেশন উত্তরণ জোরদার করার আহ্বান জানান।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অংসুই ছাইন চৌধুরী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর আগে চিৎমরমে সন্ত্রাসী হামলায় দু'জন যুবলীগ নেতাকে হত্যার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে নেথোয়াই প্রায় দুই বছর ধরে উপজেলা সদর রেস্টহাউসেই বাস করতেন। গতকালই মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাড়িতে যান পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করতে। কিন্তু রাতে আগাপাড়া এলাকার বাড়িতে ১৪-১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নেথোয়াই মারমার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল থেকে নেথোয়াইর লাশ উদ্ধার করে সকালের দিকে রাঙামাটি হাসপাতাল মর্গে নেয়। ময়নাতদন্তের পর দুপুরে তার ছেলের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন