প্রথমবারের মতো দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা গতকাল রোববার শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ছিল বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ক' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এতে শিক্ষার্থীদের এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য একটিমাত্র পরীক্ষায় অংশ নিলেই চলবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আলাদা পরীক্ষা হবে না। এগুলোতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ- মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবর্ষ সম্মান শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে 'ক' ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১, 'খ' ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ এবং 'গ' ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। এতে মোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে  শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

দেশের মোট ২৪টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আগামী ২৪ অক্টোবর 'বি' ইউনিট তথা মানবিক ও ১ নভেম্বর 'সি' ইউনিট বা বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টা-১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

খুবি প্রতিনিধি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসে জিরো পয়েন্ট থেকে গল্লামারী সড়কে তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ পরীক্ষা হয়েছে।

যশোর অফিস জানায়, প্রথম দিনে 'ক' ইউনিটে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আসন পড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছেন বলে পরীক্ষা সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল ব্যানারে রোল নম্বর, কেন্দ্র এবং ভবন নির্দেশক দেওয়া হয়।

রংপুর অফিস জানায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে রংপুর বিভাগের তিন হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

শাবি প্রতিনিধি জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) কেন্দ্রে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল শাবি এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। 'এ' ইউনিটের পরীক্ষায় শাবি কেন্দ্রে উপস্থিতির হার ছিল ৯২.৬৫ শতাংশ এবং সিকৃবি কেন্দ্রে উপস্থিতি হার ছিল ৮৭.৬১ শতাংশ। পরীক্ষা শুরু হলে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শাবি উপাচার্য ও ভর্তি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গুচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে। তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো। আশাকরি এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী পরীক্ষা আরও সুন্দরভাবে নেওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন