সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বায়োপসি করা হয়েছে এবং তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, সফল অস্ত্রোপচারের পর তার সঙ্গে তারেক রহমান ও শামীম এস্কান্দারের কথা হয়েছে।

এ সময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনও নিশ্চিত করেন যে, তিনি সুস্থ আছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার এই পরীক্ষা করা হয়। তিনি এখন সার্জিক্যাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে এই পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২১ দিনও লাগে। রেজাল্ট আসার ওপর তার চিকিৎসা নির্ভর করছে।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার শরীরে একটি ছোট লাম্প আছে- চিকিৎসকরা এটা জানার পর বায়োপসি করার সিদ্ধান্ত নেন। যেটা ১.২ সেন্টিমিটারের কাছাকর্াছি। বায়োপসি ডায়াগনস্টিক প্রসেসের একটি অংশ। এখন এটির জেনেটিক স্টাডি করতে হবে, যা সব সময় দেশে করাও যায় না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স ৭৬ বছর। তার পুরোনো সমস্যাও রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড মতামত দিয়েছে, তার সুচিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড ডেভেলপ সেন্টারে চিকিৎসার প্রয়োজন। অতি দ্রুত দেশের বাইরে নিয়ে সুচিকিৎসার প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আবার বলছি, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য আইনগত কোনো বাধা আছে বলে আমরা মনে করি না। এটা তার অধিকার, এটা কোনো দয়া নয়। সরকারের উচিত অবিলম্বে তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন। গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুদিন আগে থেকে তার শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত এপ্রিল মাসে তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন।

মামলায় দণ্ডিত হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।



মন্তব্য করুন