সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে পাওয়া পবিত্র কোরআন শরিফে সুনির্দিষ্ট কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে তারা একাধিক ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পেয়েছে। মামলার তদন্ত ও বিচারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক অপরাধীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট না পাওয়ার বিষয়টি গতকাল সোমবার রাতে সমকালকে জানান সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান। আজ মঙ্গলবার থানা থেকে কোরআন অবমাননার সেই মামলার নথি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সিআইডি সূত্র বলেছে, পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনার শুরু থেকে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও তদন্তে সহায়তা করে আসছে। রোববার পুলিশ সদরের নির্দেশে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের আদেশ আসে। গতকাল কোতোয়ালি থানা থেকে মামলার নথি সিআইডিতে হস্তান্তরের কথা ছিল। শনিবার থেকে সাত দিনের রিমান্ডে থাকা ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে মণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়ে ইকবাল এবং ৯৯৯-এ কল দেওয়া ইকরাম পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করলেও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছে। পুলিশ সূত্র বলেছে, ইকবাল ও ইকরাম হঠাৎ করে ঘটনার রাতেই মণ্ডপে কোরআন রাখা কিংবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা আগে থেকেই পরিচিত এবং সিদ্ধান্ত দু'দিন আগেই নিয়েছিল। মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ইকবালও তাই স্বীকার করেছে। তবে মাজারের দুই সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন কোরআন সরবরাহ করার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, ইকবাল তাদের দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং প্রায়ই মাজার ও মসজিদে তার যাতায়াত ছিল।

গতকাল রাতে সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান সমকালকে বলেন, মঙ্গলবার (আজ) দুপুরের মধ্যেই মামলার ডকেট আমাদের কাছে আসবে। একটি স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে খুব গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনার শুরু থেকে আমরা তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছি। তিনি আরও বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হচ্ছে মণ্ডপ থেকে পুলিশের উদ্ধার করা পবিত্র কোরআন শরিফ। তবে ওই কোরআন শরিফে অনেকেরই ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকায় আমরা (সিআইডি) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এতে সুনির্দিষ্ট কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাইনি।

গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়াদিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি এবং দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মোট নয়টি মামলা হয়। এসব মামলায় শনিবার পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।







মন্তব্য করুন