ফুলটি প্রথম দেখি রমনা পার্কে। বেশ কয়েক বছর আগের কথা। আকৃতির দিক থেকে ছোট হলেও অদ্ভুত তার দ্যুতি। ভেবেছিলাম, অনেক দূরের কোনো দেশ তার আদি আবাস। যদি এ অঞ্চলেরই ফুল হবে, তবে এত অচেনা মনে হচ্ছে কেন! পরে অবশ্য ভুল ভাঙে। কারণ, গাছটির জন্মস্থান আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল ও মিয়ানমার। ছবি তুলতে গিয়ে দেখি, ফুলটির সঠিক রং ধরা যাচ্ছে না। আসলে এই ফুলের রং অতি সূক্ষ্ণ ধরনের। ঢাকায় রমনা পার্কের কয়েকটি গাছ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বলধা গার্ডেনেও দেখা যায়। তবে তুলনামূলকভাবে ততটা সহজলভ্য নয়। অঞ্জন ফুল আকারে ছোট হলেও চটকদারি বর্ণের কারণে খুব সহজেই নজর কাড়ে। অঞ্জন (Memecylon edule)ফুলের গাছ প্রায় তিন থেকে চার মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গড়নে ঝোপাল ও চিরসবুজ। পাতা লম্বায় ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে আড়াই থেকে ৫ সেন্টিমিটার, গাঢ় সবুজ রঙের এবং চার্ম। ফুল ফোটার মৌসুম বসন্ত থেকে গ্রীষ্ফ্ম অবধি। কাণ্ড ও ডালপালাজুড়ে ছোট ছোট নীলচে বেগুনি রঙের ফুলের থোকার রং সত্যিই মোহনীয়। প্রতিটি ফুলের গুচ্ছ পাঁচ মিলিমিটার চওড়া, ডালের গা থেকে বেরোয় এবং প্রায় সারা গাছ ছেয়ে ফেলে। ফলের রং প্রথমে লাল, পরে ধীরে ধীরে কালো রং ধারণ করে। আমাদের দেশে সাধারণত কলমেই চাষ। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম বসন্ত ও বর্ষাকাল। জন্মস্থানে প্রায় ১০ থেকে ১২ রকমের অঞ্জন পাওয়া যায়।

এরা মূলত পাহাড়ি মাটিতে ভালোভাবে জন্মে। গাছের বাকল সবুজ এবং পাতলা। পরিপকস্ফ ফল অলংকারে এবং কাঠ হালকা আসবাবপত্রে ব্যবহূত হয়। পাতা, বাকল ও কাঠে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোসাইড, রেজিম, আঠা এবং মেলিক অ্যাসিড। তা ছাড়া প্রচুর পরিমাণে অ্যালুমিনিয়ামও পাওয়া যায়। গাছের নির্যাস থেকে হলুদ রং তৈরি করা হয়। এর পাতা ও মূল আমাশয় নিরাময়ের জন্য ব্যবহূত হয়। গনোরিয়ার চিকিৎসায়ও গাছটির বিভিন্ন অংশের কার্যকর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।



মন্তব্য করুন