খুলনার কয়রা উপজেলায় পুকুর থেকে এক দম্পতি এবং তাদের কিশোরী মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বামিয়া গ্রামে বাগালি ইউনিয়ন পরিষদের সামনের পুকুরে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের হাবিবুল্লাহ গাজী (৩৫), তার স্ত্রী বিউটি বেগম (৩০) ও মেয়ে হাবিবুন্নাহার টুনি (১৪)। হাবিবুল্লাহ ও টুনিকে কুপিয়ে এবং বিউটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। এ ঘটনায় চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

বাগালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ গাজী জানান, সকালে গ্রামের লোকজন পুকুরে পানি আনতে গিয়ে লাশ ভাসতে দেখে প্রথমে তাকে জানায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

কয়রা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদাত হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে দু'জনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাবিবুল্লাহর হাত-পা বাঁধা ছিল। সোমবার রাতে তাদের হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে তারা ধারণা করছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, হাবিবুল্লাহ পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। তার বসতভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই। নিজের রোজগারে একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়েই চলছিল তার সংসার। অন্য তিন ভাই আলাদা স্থানে বসবাস করেন। হাবিবুল্লাহর বড় ভাই মনিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার ভাইয়ের সঙ্গে গ্রামের কারও কোনো ঝামেলা নেই। তবুও কারা এমন কাজ করল? যারা একটি পরিবারকে এভাবে শেষ করে দিল আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন।'

স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘরের বারান্দা ও মেঝেতে রক্তের দাগ রয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখা গেছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেশীদের কয়েকজন বলেন, কিছুদিন আগে হাবিবুল্লাহ ওই এলাকার এক গৃহবধূর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি ধরে ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারী বঁটি দিয়ে তাকে কোপাতে গিয়েছিলেন। ওই নারীর পক্ষের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

কয়রা থানার ওসি রবিউল হোসেন জানান, দরিদ্র ওই পরিবারের বাড়ি থেকে লুট করার মতো তেমন কোনো মালপত্র নেই। ধর্ষণের পর এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সহকারী পুলিশ সুপার এম সাইফুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় নারী পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মা-মেয়েকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। হত্যাকাণ্ডের সময় একাধিক লোক ছিল বলে মনে হচ্ছে। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





মন্তব্য করুন